অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে স্ত্রীর বেশি মেলামেশা পছন্দ করতো না স্বামী। সন্দেহ ছিল কোনও সহকর্মীর সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক আছে। এবার সেই সন্দেহের জেরেই স্ত্রীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুনের (Husband kill Wife) অভিযোগ উঠলো এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর মাকাল পাড়া এলাকায় (Basanti Muder Case)। মৃতের নাম বীথিকা শাসমল (৩৩)। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করেন বাপন শাসমল। খুন করার পরেই চম্পট দেন বাপন। তবে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে।

বছর পনেরো আগে সন্দেশখালির বাসিন্দা বাপনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল গোসাবার বাসিন্দা বীথিকার। বিয়ের কয়েক বছর পর তাঁদের একটি মেয়েও জন্মায়। সমস্যার সূত্রপাত হয় বীথিকা একটি লোন প্রদানকারী সংস্থায় কাজ শুরু করলে। কাজের সূত্রে অফিসের সহকর্মী থেকে শুরু করে বাইরের অনেকের সঙ্গে কথা বলতে হত তাঁকে। সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দ, গল্পগুজব, হইচইও করতে পছন্দ করতেন বীথিকা। সেটাই সহ্য করতে পারতেন না স্বামী বাপন। তাঁর সন্দেহ ছিল স্ত্রী পরপুরুষের সঙ্গে পরকীয়া করছেন। তাঁদের মেয়ে জানিয়েছে, এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়শই অশান্তি হত। যার জেরে সম্প্রতি মেয়েকে নিয়ে বাসন্তীতে দিদির বাড়ি গিয়ে ওঠেন বীথিকা। মঙ্গলবার বাপন যান সেখানে। অভিযোগ, গভীর রাতে ঘুমের মধ্যেই স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে বাইক নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। বুধবার সকালে নিউ টাউন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে বাসন্তী থানার পুলিশ। আরও পড়ুন:

তাঁদের মেয়ে জানিয়েছে, “অফিসের কোনও অনুষ্ঠানে মা যেতে চাইলেই অশান্তি হতো ঘরে। মা বলত, বাবা রাজি না হলে যাবে না। দিনের পর দিন ঝামেলা করত।” মদ খেয়ে অশান্তি করত বলেও দাবি মেয়ের। বীথিকা স্বামীর সঙ্গে থাকবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাতেই আরও রেগে যান বাপন। স্ত্রীকে কোনও ভাবেই ডিভোর্স দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। বাপনের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে মৃতের পরিবার।

–

–

–

–

–

–

–

