Wednesday, March 11, 2026

আমি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছি না: গান্ধীজিকে উদ্ধৃত করে রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি বোসের

Date:

Share post:

বাংলার রাজ্যপাল পদে ইস্তাফা দিলেও রাজ্য ছেড়ে যেতে গিয়ে আবেগপ্রবণ সি ভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose)। বৃহস্পতিবার, বাংলার রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন আর এন রবি। তার আগে বুধবার, রাজভবন বর্তমানে লোকভবনের অফিশিয়াল এক হ্যান্ডেলে (X-Handle) রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লেখেন আনন্দ বোস। সেখানে “দ্বিতীয় বাড়ি-পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে যুক্ত” থাকার কথা লেখেন তিনি। গান্ধীজির বাণী- “আমি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছি না, আর বাংলা আমাকে ছেড়ে যেতে দেবে না” উল্লেখ করে লেখেন তাঁরও একই অনুভূতি। আর এই চিঠি আরও একবার প্রমাণ করল, জোর করেই তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছে মোদি সরকার।

৩ বছর ৪মাস আগে রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়ে বাংলার সঙ্গে তাঁর যোগের কথা জানান সি ভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose)। বলেন, সুভাষচন্দ্র বোসের পদবি অনুসারেই তাঁর নামের শেষে রয়েছে বোস। এর পর বাংলা ভাষা শেখার জন্য তিনি সরস্বতীপুজোর দিন বাংলায় হাতেখড়ি দেন। কিন্তু তার পরে নবান্নের সঙ্গে রাজভবনের বিভিন্ন ইস্যুতে ঠাণ্ডা লড়াই বাধে। তবে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে আচমকা রাজ্যপাল বদলে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে শাসকদল। দিল্লি থেকে কলকাতা ফিরেও লোকভবনে ওঠেননি আনন্দ বোস। সৌজন্যের খাতিরে তাঁকে রাজ্য সরকারের  সৌজন্য-এ থাকতে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী, যাওয়ার আগে গোছানোর জন্যেও লোকভবনে যাননি আনন্দ বোস।

বাংলা ছাড়ার আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে আবেগভরা খোলা চিঠি লিখলেন বোস। তাঁর কথায়,
”পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উদ্দেশে উন্মুক্ত পত্র আমার প্রিয় বঙ্গবাসী ভাই ও বোনেরা, লোক ভবন, কলকাতায় আমার দায়িত্বের অধ্যায় শেষের পথে এসে পৌঁছেছে। এই মুহূর্তে আমি আবারও আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই—আপনারা যে সমর্থন, স্নেহ ও সম্মান আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমাদের প্রিয় এই রাজ্যের স্নেহময় ও সহৃদয় মানুষের সান্নিধ্যে কাটানো মুহূর্তগুলো আমি আজও সযত্নে স্মরণ করি। আমি মনে করি সেই বোনের আলিঙ্গন, সেই ছোট্ট ছেলেটির পিঠে আলতো চাপড়, সেই তরুণের দৃঢ় করমর্দন, আর দূর থেকে উঁচু করে ওঠা সেই হাতের শক্তিশালী বার্তা। যদিও আমার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তবু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমার পথচলা এখানেই শেষ নয়।” এর পরেই গান্ধীজির বাণী উল্লেখ করে বাংলার  জন্য তাঁর আবেগের কথা লেখেন বোস। লেখেন, ”পশ্চিমবঙ্গ—আমার দ্বিতীয় ঘর—এর সঙ্গে আমি অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত থাকব এবং থাকতেই চাই। অনেক দশক আগে মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন— “আমি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছি না, আর বাংলা আমাকে ছেড়ে যেতে দেবে না।” আজ আমি সেই একই অনুভূতি ভাগ করে নিচ্ছি। এই পবিত্র মাটির এমন এক আকর্ষণ রয়েছে, যা বিদ্যুতের মতো হৃদয়কে টেনে নেয়।”
আরও খবরঐতিহাসিক! দেশে প্রথম ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

রাজ্যের মানুষের মঙ্গল কামনায় আনন্দ বোস লেখেন,
”এই মাটিই জন্ম দিয়েছে এমন বহু মহামানব ও মহীয়সী নারীকে, যাঁরা সমগ্র দেশকে পথ দেখিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই অমর বাণী আমার মনে পড়ে। তিনি লিখেছিলেন— “এই জপ, এই গান, এই মালা গোনা ছেড়ে দাও… তিনি আছেন সেখানে, যেখানে চাষি কঠিন মাটিতে লাঙল চালাচ্ছে, আর যেখানে পথ নির্মাতা পাথর ভেঙে পথ তৈরি করছে…” আমি সেই ঈশ্বরকে খুঁজে পেতে চেয়েছিলাম—এবং তাঁকে খুঁজে পেয়েছি কলকাতার অলিগলিতে, গ্রাম ও শহরের পথে, শিশুদের উজ্জ্বল ও উৎসাহী চোখে, প্রবীণদের স্নেহময় দৃষ্টিতে। বন্ধুগণ, গত তিন বছরে আমি এই রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছি। আমি গ্রামবাসীদের খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরে বসে তাঁদের সঙ্গে আহার করেছি; তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করেছি; জ্ঞানী ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। আমাদের ভাই-বোনদের সামাজিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের প্রতি যে গভীর গর্ব রয়েছে, তা বাঙালি মননের গভীরতা ও মহিমার সাক্ষ্য বহন করে। বন্ধুগণ, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—পশ্চিমবঙ্গের আমার ভাই ও বোনেরা আগামী দিনে আরও মহান উচ্চতায় পৌঁছবেন। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সেই পথচলায় বিনম্রভাবে অবদান রেখে যাব। আগামী দিনে বঙ্গভূমি আরও গৌরবের শিখরে পৌঁছাক—এই আমার আন্তরিক প্রার্থনা। সকলের জীবনে আসুক সমৃদ্ধি, শান্তি ও সুস্বাস্থ্য। মা দুর্গা আমার প্রিয় মানুষের সকলকে রক্ষা করুন।
বন্দে মাতরম্।”

spot_img

Related articles

গ্যাসের দামবৃদ্ধির জেরে হু হু করে বাড়ছে অটোর ভাড়া, নাজেহাল যাত্রীরা

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ ভারতের গ্যাসের সরবরাহে। আর তার জেরে কলকাতায় সিএনজি-র জোগান কমছে (CNG Price Increase)। এর...

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সৌরভকে বিশেষ সম্মাননা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের, বুধেই রওনা মহারাজের

লর্ডসের বুকে জামা উড়িয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের দাপট প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে বাঙালি, এবার ফুটবলের ঐতিহ্যশালী প্রতিযোগিতায় তাঁকে সম্মানিত করতে...

অপরাধীরা সবচেয়ে সুরক্ষিত বিজেপিতে! কয়লা মাফিয়ার বিজেপিতে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ায় তোপ শশী-পার্থর

বিজেপি অপরাধী-দুর্নীতিগ্রস্তদের আশ্রয়দাতা। ক্রিমিনালদের দলে নিয়েই দলভারী করছে বিজেপি (BJP)। কয়লা মাফিয়া হিসেবে পরিচিত জয়দেব খাঁ-কে (Joydeb Kha)...

ঐতিহাসিক! দেশে প্রথম ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

মৃত্যুর নাম যখন ইউথেনেশিয়া (Euthanasia) তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে বছরের পর বছর অসম্ভব যন্ত্রণায় কাটানো কিছু অব্যক্ত...