এলপিজি সরবরাহে সম্ভাব্য সঙ্কট মোকাবিলায় বিস্তারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) জারি করল রাজ্য সরকার (State Government)। নবান্ন (Nabanna) সূত্রে জানানো হয়েছে, গৃহস্থালি রান্না থেকে শুরু করে হাসপাতাল, স্কুল, আইসিডিএস (ICDS) কেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

নতুন বিধি অনুযায়ী, নবান্নে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে রাজ্য এলপিজি কন্ট্রোল রুম (LPG Control Room)। এই কন্ট্রোল রুম থেকেই গোটা রাজ্যে এলপিজি মজুত, সরবরাহ এবং পরিবহনের উপর নজরদারি চালানো হবে। জেলা প্রশাসন, ডিস্ট্রিবিউটর এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে সম্ভাব্য সমস্যার দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়া মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি রাজ্যস্তরের কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। এই কমিটিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও সরবরাহ, শিল্প, পরিবহন এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার-সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা থাকবেন।

SOP অনুযায়ী, গৃহস্থালি গ্রাহকদের পাশাপাশি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আইসিডিএস কেন্দ্র, স্কুল-কলেজ এবং সরকারি হস্টেলগুলিকে এলপিজি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ বা ধাপে ধাপে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিষেবাগুলি স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা যায়।

সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত ডেলিভারি গাড়ি মোতায়েন, বোতলজাত কারখানা থেকে সরবরাহের সংখ্যা বাড়ানো এবং এলপিজি পরিবহণে প্রয়োজনে ‘গ্রিন করিডর’ তৈরির কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।

রাজ্যস্তরে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে জেলা অনুযায়ী এলপিজি মজুত, সরবরাহ এবং পরিবহণের তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। জেলা স্তরেও জেলা শাসকের নেতৃত্বে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এলপিজি (LPG) মজুতদারি, কালোবাজারি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে।

পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক হেল্পলাইন নম্বর (Help Line Number) চালু করা হয়েছে, যেখানে এলপিজি বা জ্বালানি সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানানো যাবে। গ্রামীণ এলাকায় প্রয়োজনে কেরোসিনের সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

–

–


