নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হতেই রাজ্যে একের পর এক মনের মত আধিকারিক পদে বদল করতে শুরু করে দিল নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ বেশ কয়েকটি নির্বাচনে যা দেখা যায়নি এবার সেই পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনের আগেই বদল করে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব (Chief Secretary) ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে (Home and Hill Affairs Secretary)। মুখ্যসচিবের দায়িত্বে এলেন দুষ্মন্ত নারিয়ালা (Dushyant Nariala)। এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হল সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে (Sanghamitra Ghosh)।

নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে মুখ্যসচিবের মতো পদে রদবদল কার্যত নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। ঠিক যেভাবে একসঙ্গে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরেও চার রাজ্যের এক দফায় আর শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় (two phase election) নির্বাচন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন, সেই ভাবেই নির্বাচন ঘোষণার ১২ ঘণ্টার মধ্যে বদল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব। এমনকি যে বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের এই দুই শীর্ষ পদে রদবদলের ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে এত বড় পদে রদবদলের কোনও কারণও দেখানো হয়নি।

রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর (Nandini Chakraborty) পরিবর্তে মুখ্যসচিব পদে আনা হল ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে (Dushyant Nariala)। তিনি বর্তমানে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদে ছিলেন। তবে তাঁর জায়গায় কাকে ওই পদে নিয়ে যাওয়া হল, তা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে।

আরও পড়ুন : রাজ্য প্রশাসনে বড় রদবদল: ৭ আইএএস অফিসারের বদলির নির্দেশ নবান্নের

অন্যদিকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মীনার জায়গায় আনা হল ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। বর্তমানে তিনি নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগ ও সামাজিক সুরক্ষা বিভাগের সচিব পদে ছিলেন। তাঁর জায়গায় কোনও আধিকারিক নিয়োগ এখনও হয়নি। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে নিয়ে কমিশন-রাজ্য সংঘাতও হয় যখন নির্বাচনের ঠিক আগে স্বরাষ্ট্র সচিবকে অন্য রাজ্যে অবজার্ভার হিসাবে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। রাজ্যের তরফ থেকে সেই নির্দেশিকায় সম্মতি দেওয়া হয়নি। এবার তাঁকে রাজ্যের শীর্ষ পদ থেকেই সরিয়ে দিয়ে কার্যত প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন।

–

–

–

–

–

