গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ভোটারের নতুন তালিকায় কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯-এ। এক ধাক্কায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ! কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেল, এবার সেই জবাব তলব করতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে গেল তৃণমূলের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ পার্থ ভৌমিক, মহুয়া মৈত্র নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানেই তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, এক ধাক্কায় কমিশন কিভাবে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দিতে পারে?

তৃণমূলের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে অমান্য করে হাইকোর্টের সঙ্গে কোন রকম সংযোগ স্থাপন না করেই কমিশন ইচ্ছামত ভোটারদের বাদ দিচ্ছে। কার্যত বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে ভোটারদের বাদ দিতে হবে এই উদ্দেশ্য নিয়েই তারা বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। আমরা দেখলাম, বাকি ৪টি রাজ্যে এক দফায় নির্বাচন হলেও আমাদের রাজ্যে তা ২ দফায় হচ্ছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় আশ্চর্যের বিষয় হল রাজ্যের ভোটার সংখ্যা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে তালিকা বেরিয়েছিল, তাতে রাজ্যের মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার। কিন্তু নতুন তালিকায় তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯-এ। একধাক্কায় এত বিপুল পার্থক্য কী করে হল? কমিশন যে নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে তা তাদের কর্মকান্ড থেকে জলের মতো স্পষ্ট”।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, কোনও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই এবং বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় না করেই এই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও কোনও শুনানি ছাড়াই এমন পদক্ষেপে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, মোট ভোটারের সংখ্যা ৭.০৪ কোটি হিসেবেই দেখাতে হবে, কারণ এখনও বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত ভাবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে হবে, শুধু সাপ্তাহিক নয়। তৃতীয়ত, যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে তাঁদের জন্য দ্রুত আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ভোটের আগেই আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ধরে পরিকল্পিত ভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, এতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক আবেদন কীভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

আরও পড়ুন- তৃণমূলের তালিকা থেকে বাদ ৭৪: কেউ হতাশ, কেউ দিলেন হুমকি, কেউ আবার স্বস্তিতে

_

_
_

_
_

_

