Wednesday, April 8, 2026

মোদি রাজত্বের বারো বছরে চাকরির বেহাল দশা, দেশে শিক্ষিত বেকার ৩০ শতাংশ!

Date:

Share post:

বিজেপি (BJP)আমলে চাকরি নেই, প্রকাশ্যে কেন্দ্রের রিপোর্ট। বাংলায় ক্ষমতায় এলে বেকারত্ব ঘুচিয়ে দেওয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যারা ভোট জিততে চায় তাদের আসল চেহারা এবার সবার সামনে প্রকাশ পেল। ভারতীয় জুমলা পার্টির সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে প্রায় বারো বছর, অথচ সেই কেন্দ্রের রিপোর্ট (Central Govt Report) বলছে মোদি রাজত্বকালে দেশের ৩০ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট বেকার। অর্থাৎ বছরে ২ কোটি চাকরির স্বপ্ন দেখানো বিজেপি সরকার যে আসলে মিথ্যে প্রতিশ্রুতির বুলি আওড়ে বেড়ায় সেটা এবার কেন্দ্রের চাঞ্চল্যকর রিপোর্টেই স্পষ্ট। কর্ম সংস্থানের বেহাল দশা, উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যেই বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ—এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকারের কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

চলতি অধিবেশনে লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ কে বিষ্ণু প্রসাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে বেকারত্ব সংক্রান্ত যে রিপোর্ট সামনে এসেছে সেটা মারাত্মক। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৩০ জনের বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর যুবক – যুবতীর চাকরি নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও বেকারত্বের হার গ্রামের তুলনায় শহরে অনেক বেশি। শ্রমমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে যতই বলুন ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে স্নাতক বেকারের সংখ্যা ২৫.৯ শতাংশ, বাস্তব ছবিটা আরও বেশি। ৩২.২ শতাংশ স্নাতকোত্তর চাকরি না পেয়ে বেকার। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা নিয়েও প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় একজন কর্মহীন। শহরাঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পাশ যুবকদের মধ্যে মিলিয়ে প্রায় ১৯.২ শতাংশ বেকার। অর্থাৎ শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, গোটা কর্মসংস্থান ব্যবস্থাই ধুঁকছে। এটাই বিজেপি আমলের আসল চিত্র। অবশ্য পরিসংখ্যানকে আড়াল করতে সামগ্রিক বেকারত্বের হার কম দেখানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ। উঠছে। বাংলায় তৃণমূল বারবার বলে এসেছে যে বিজেপির মিথ্যাচারের কথা। গ্রামীণ ভারতে বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশেই থমকে রয়েছে। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়ার সমীক্ষা বলছে, বর্তমানে দেশে ১৫-২৫ বছর বয়সি স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৪০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা মোদি আমলে নীতিগত ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ। আসলে কর্মসংস্থান তৈরির কোনও সুসংহত রূপরেখা যে নেই কেন্দ্রের কাছে সেটাই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কেন্দ্রেরই পরিসংখ্যান।

 

Related articles

রাজনৈতিক কাজে যুক্ত থাকলেই কড়া ব্যবস্থা, শাস্তির হুঁশিয়ারি মুখ্যসচিবের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সরকারি কর্মীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। সরকারি...

দাঁড়িয়ে থাকা বিমানে ধাক্কা গাড়ির! যাত্রী নিরাপত্তায় বড়সড় প্রশ্ন কলকাতা বিমানবন্দরে

অসামরিক বিমান পরিবহনের রাশ এখনও কতটা আলগা কেন্দ্রের বিমান মন্ত্রকের, ফের একবার প্রমাণ পাওয়া গেল। এবার বড়সড় দুর্ঘটনার...

পাত পেড়ে খেয়েছিলেন অমিত শাহ, এবার সেই বিশ্বাস পরিবার বাদ ভোটার তালিকা থেকে!

নির্বাচনে দিল্লি থেকে পরিযায়ী পাখির মতো আসেন বিজেপির নেতারা। চূড়ান্ত বাঙালি প্রেম দেখানোর খেলা চলে কয়েক মাস। আদতে...

চাপে পড়ে বিবৃতি! পাক-মন্ত্রীর হামলা হুমকি নিয়ে সাফাই পেশ রাজনাথের

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আচমকাই কলকাতা হামলার হুমকি দিলেন। বাংলায় নির্বাচন আবহে এই ধরনের উস্কানিমূলক কথায় বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের...