Wednesday, April 8, 2026

ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি ‘মা-ছেলে’, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে সম্পর্কের অগ্নিপরীক্ষা

Date:

Share post:

একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়াই করা নতুন নয় বঙ্গ রাজনীতিতে। কিন্তু সম্পর্ক যদি হয় মা-ছেলের মতো, আর সেই দু’জনকেই যদি ভোটের ময়দানে মুখোমুখি হতে হয়—তাহলে তা নিঃসন্দেহে অন্য মাত্রা যোগ করে। উত্তরবঙ্গের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের এবারের নির্বাচনে তেমনই এক বিরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই কেন্দ্রে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে রঞ্জনশীল শর্মাকে। অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে, তাঁদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের—রক্তের না হলেও বাস্তবে মা-ছেলের মতোই ঘনিষ্ঠ।

জানা গিয়েছে, ছোটবেলাতেই বাবাকে হারান রঞ্জন। পরে মায়ের মৃত্যুর পর শিখা চট্টোপাধ্যায়ই তাঁকে নিজের সন্তানের মতো করে মানুষ করেন। সেই থেকেই শিখাকে ‘মা’ বলেই সম্বোধন করেন রঞ্জন। শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, রঞ্জনের রাজনীতিতে হাতেখড়িও শিখার হাত ধরেই। একসময় দু’জনেই তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন। তবে পরবর্তীতে দলীয় মতবিরোধের জেরে শিখা বিজেপিতে যোগ দেন। রঞ্জন কিন্তু তৃণমূলেই থেকে যান এবং বর্তমানে শিলিগুড়ি পুরনিগমের কাউন্সিলর ও জেলা সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হতে না পেরে বিজেপিতে যোগ দেন শিখা। সেই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেবকে পরাজিত করে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। এবারে তাঁকেই পুনরায় প্রার্থী করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল এই কেন্দ্রে নতুন মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে রঞ্জনশীল শর্মাকে।

প্রার্থী ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রেখেই কীভাবে তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার চালাবেন, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। রঞ্জন ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, প্রচারে নামার আগে তিনি শিখা চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর আশীর্বাদ নেবেন। তাঁর কথায়, “মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই এই লড়াইয়ে নামব।”

অন্যদিকে, শিখা চট্টোপাধ্যায়ও ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজনৈতিক লড়াই আর ব্যক্তিগত সম্পর্ক—দুটি আলাদা বিষয়। সম্পর্কের কোনও অবনতি হবে না বলেই তাঁর দাবি।

এই কেন্দ্রে তাই এবার ভোটের লড়াই শুধুই রাজনৈতিক সমীকরণে সীমাবদ্ধ নয়। আবেগ, সম্পর্ক এবং মতাদর্শ—সব মিলিয়ে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির এই ‘মা-ছেলের’ লড়াই নজর কেড়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত জয়ী হন কে—মা, না ছেলে; নাকি এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে সম্পর্কের মর্যাদা।

আরও পড়ুন – ইডেনে প্রস্তুতি শুরু নাইটদের, বিমান জটে আটকে নারিনরা

_

 

_

 

_

Related articles

বদমেজাজি জ্ঞানেশ! বৈঠকে বাদানুবাদ, ‘অপমান’ পর্যবেক্ষককে

জনপ্রতিনিধি থেকে সরকারি আধিকারিকদের প্রতি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের আচরণ কতটা খারাপ তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন...

ভোটার তালিকা ফ্রিজ কেন, ভোট দিতে না পারলে ট্রাইবুনাল কীসের? প্রশ্ন তুলে সরব মমতা

ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়ার আগেই কেন ভোটার তালিকা 'ফ্রিজ'? বুধবার, শ্রীরামপুরের নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সিদ্ধান্ত...

ভুলের খেসারত! চাপে পড়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে গান বাঁধবেন বাদশা

নিজের নতুন গান 'টাটিরি' (Tatiri Song Controversy) ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই বাদশার (Badshah)। গানের কথা ও দৃশ্যায়নে নারীদের...

সভামঞ্চ লাগোয়া জায়গায় বৈদ্যুতিক স্পার্ক! ক্ষুব্ধ মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরে সভামঞ্চ লাগোয়া জায়গায় আগুন আতঙ্ক। দর্শকাসনে আগুনের ফুলকি (spark) দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন...