নিজের জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নীতীশ কুমার। বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার দিকে পা বাড়িয়েছেন। নীতীশের (Nitish Kumar) দিল্লি-মোহ বিহারের জেডিইউ (JDU) সমর্থক এমনকি নেতাদেরও ভীষণভাবে হতাশ করেছে। তবে এবার নীতীশের এই সিদ্ধান্তের জেরে তাঁর হাত ছাড়লেন ২৩ বছর ধরে তাঁর সঙ্গে পথ চলা প্রবীণ জেডিইউ নেতা কে সি ত্যাগী (K C Tyagi)। কার্যত বিজেপির আগ্রাসী নীতিতে অস্তিত্ব সংকটে জেডিইউ দল।

বিহার বিজেপি জোট রাজনীতির চাপে গত দু মাস অনেকটাই নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন জেডিইউ জাতীয় মুখপাত্র কে সি ত্যাগী। ২০০৩ সালে যে ত্যাগীর হাত ধরে নীতীশ জেডিইউ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, বিজেপির সঙ্গী হওয়ায় সেই ত্যাগীকেই তিনি ত্যাগ করেছিলেন। আর সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছিলেন জেডিইউ জাতীয় মুখপাত্র (JDU National Spokesperson)।

জেডিইউ বিহারের নেতা কর্মীরা চোখের জল ফেলেছিলেন নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় সাংসদ হয়ে যাওয়ায়। সেই চোখের জল ছিল অত্যন্ত বেদনার। প্রায় একই সুর উত্তরপ্রদেশের জেডিইউ নেতার গলায়। তাঁর দাবি, আমার বক্তব্য পেশ করার কোন জায়গা আর ছিল না। আমি বুঝতে পারছিলাম নীতিগতভাবে দলে আমার আর কোনও স্থান নেই। তাই পদত্যাগ ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।

আরও পড়ুন : অমিত-সম্রাটকে পাশে নিয়ে মনোনয়ন জমা নীতীশের, জনমতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা: ক্ষুব্ধ তেজস্বী

তবে ইতিমধ্যেই বিহারে লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটে নীতীশকে দিয়ে কার্যসিদ্ধি করে ফেলেছে বিজেপি। একদিকে কেন্দ্রের ক্ষমতা দখলে বিজেপির একপাশের খুঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে জেডিইউ। অন্যদিকে বিহার দখল সহজ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নীতীশকে (Nitish Kumar) সাংসদ পদ দিয়ে কার্যত জেডিইউ (JDU) দলকেই অপ্রাসঙ্গিক করে ফেলেছে বিজেপি। বিজেপির সেই আগ্রাসী নীতি বুঝতে পেরেই এবার জেডিইউ ছেড়ে অন্য দলের পথে কে সি ত্যাগী।

–

–

–

–

–

