কখনও কখনও বাস্তব জীবনের কাহিনী হার মানায় পর্দার নাটকীয়তাকে। হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর (Naseeruddin Shah) জীবনও হার মানাবে রুপালি পর্দার নাটকীয়তাকে। যেখানে মৃত্যু খুব কাছ থেকে ছুঁয়ে গিয়েছিল, আর বন্ধুত্ব হয়ে উঠেছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ঢাল। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে শুরু করে দীর্ঘ চার দশকের পথচলায় ওম পুরির সঙ্গে নাসিরুদ্দিন শাহর বন্ধুত্ব ছিল গভীর। ‘আক্রোশ’, ‘দ্রোহকাল’, ‘জানে ভি দো ইয়ারো’ —একসঙ্গে কাজের স্মৃতি যেমন ছিল, তেমনই ছিল জীবনের নানা উত্থান-পতনের সঙ্গী হওয়া। কিন্তু সেই বন্ধুত্বের আসল পরীক্ষা হয় এক ভয়ঙ্কর সন্ধ্যায়।

শ্যাম বেনেগালের ‘ভূমিকা’ ছবির শ্যুটিং চলাকালীন একদিন একটি রেস্তোরাঁয় ডিনার করছিলেন দু’জন। পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক, কথাবার্তাও চলছিল স্বাভাবিক ছন্দে। হঠাৎই সেই ছন্দ ভেঙে দেয় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায়। নাসিরুদ্দিন শাহ তাঁর স্মৃতিচারণায় লিখেছেন, তিনি তখন চেয়ার থেকে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ওম পুরি আচমকা চিৎকার করে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি তিনি। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতেই দেখেন পাশেই দাঁড়িয়ে আছে জসপাল নামের এক ব্যক্তি। তাঁর হাতে রক্তমাখা ছুরি! ফের আক্রমণ করার আগেই নাসিরুদ্দিনের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান ওম পুরি। আরও পড়ুন: ভোটের আবহে উত্তপ্ত হাড়োয়া! নৃশংস খুন তৃণমূল কর্মী

রক্তাক্ত অবস্থায় নাসিরকে বাঁচানোর লড়াই তখন শুরু। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ওম পুরি তাঁকে নিয়ে ছুটে যান হাসপাতালে। আতঙ্ক-রক্ত, সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে বন্ধুকে বাঁচানোর তাগিদই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে, হাসপাতালে পৌঁছনোর পথে পুলিশি জটিলতাও তৈরি হয়। তবু থামেননি ওম। বন্ধুর পাশে থাকার জন্য তিনি পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত অনুনয়-বিনয়ের পর তাঁকে নাসিরের পাশে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়।

–

–

–

–

–

–

–
