বিধানসভা নির্বাচনের আগেই প্রার্থী হতে চেয়ে দলের কাছে আবেদন করেছিলেন দিলীপ-জয়া রিঙ্কু ঘোষ মজুমদার (Rinku Ghosh Majumder)। কিন্তু বিজেপির (BJP) দু-দুটো প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলেও তাঁর জায়গা হয়নি। উল্টে রাজারহাট-নিউটাউন প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। আর এই নিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রিঙ্কু। একেই পরিবারবাদের অজুহাত দিয়ে তাঁকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। তার উপর যাঁকে প্রার্থী করেছে সেই পীযূষ কানোরিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই নিয়ে শুক্রবার সটান বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বানসলের (Sunil Bansal) কাছে নালিশ জানান রিঙ্কু। ‘বিশ্ববাংলা সংবাদ’-কে হতাশ গলায় রিঙ্কু বলেন, “যাঁরা হেরেছিল তাঁদেরই আবার সেই জায়গায় প্রার্থী করেছে দল। এদিকে আমাকে পরিবারতন্ত্রে অজুহাত দিয়ে টিকিট দিল না। অথচ একেকটা পরিবার থেকে দুজন, তিনজন করে টিকিট পাচ্ছে। দলের সবার জন্য এক নিয়ম হবে না কেন!” চরম ক্ষোভ নিয়ে জানান দিলীপ-ঘরনী। বিস্ফোরক অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বাইরের লোক এসে দলটাকে দূষিত করছে।”

দীর্ঘদিন ধরেই পদ্ম শিবিরে রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Ghosh Majumder)। সেই সূত্রেই দিলীপ ঘোষের সঙ্গে আলাপ এবং তারপর বিবাহ। এইবার ভোট ঘোষণার আগেই প্রার্থী হতে চেয়ে দলের কাছে বায়োডাটা জমা দিয়েছিলেন তিনি। রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রটি তাঁর পছন্দ ছিল। কিন্তু প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা গেল সেখানে পীযূষ কানোরিয়াকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এই দেখে চরম ক্ষুব্ধ হন রিঙ্কু। কারণ তাঁর অভিযোগ, শুধু তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি তাই নয়, যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ‘বিশ্ববাংলা সংবাদ’-কে জানান, ফোনেই তাঁকে বলা হয়েছিল এক পরিবার থেকে দুজনকে প্রার্থী করা যাবে না। তারপরেই রিঙ্কু প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কীভাবে একই পরিবার থেকে দুজন-তিনজন টিকিট পাচ্ছে? দলে সবার জন্য এক নিয়ম থাকাটাই তো বাঞ্ছনীয়। সেটা হবে না কেন?” তাঁর কথায়, “এক নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য হবে। একেক জনের জন্য একেক রকম নিয়ম সেটা তো হতে পারে না”।

এই ক্ষোভের কথা রাজ্য নেতৃত্বকে না জানিয়ে বানসলকে কেন জানালেন রিঙ্কু? উত্তরে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, “এখানে একজনকে বসিয়ে রাখা হয়েছে ঠিকই, তবে সিদ্ধান্ত তো সব নেয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই কারণে তাঁর কাছেই অভিযোগ জানিয়েছি। বলেছি এই প্রার্থী পছন্দ নয়। তার কারণও বলেছি।” এরপরেই বিরোধীদের মতো রিঙ্কুও বলেন, “বাইরে থেকে লোক এনে এখানে সংগঠন করছে। দলটা দূষিত হয়ে গেছে।”

তাঁর ক্ষোভের কোনও সদুত্তর পেয়েছেন কি? উত্তরে রিঙ্কু জানালেন, “কোন লাভ হবে না তা জানি। কারণ বিজেপিতে এখন এটাই চলছে- যা হবে সেটা মেনে নিতে হবে। না মেনে নিতে পারলে, হয় সরে যাও, নয় বসে যাও।”

তাহলে তিনি কোন রাস্তায় যাবেন? উত্তরে রিঙ্কু জানান, এই প্রার্থীর হয়ে প্রচারে যাওয়ার কোন ইচ্ছে নেই তাঁর নেই। তবে স্বামী দিলীপ ঘোষের হয়ে খড়্গপুরে প্রচারে যাবেন বলে জানিয়েছেন রিঙ্কু। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ফল কেমন হবে? কতটা আশাবাদী তিনি? উত্তরে হতাশ গলায় রিঙ্কুর বক্তব্য, “আর তো কিছুদিন। বাকি দেড় মাস পরেই জানতে পেরে যাবেন কী হল…” একটু থেমে রিঙ্কুর সংযোজন, “যাঁরা যে জায়গায় আগেরবার হেরে গিয়েছেন, তাঁদেরই আবার সেখানেই প্রার্থী করা হয়েছে। এমন অনেককে প্রার্থী করা হয়েছে যাঁদের গ্রহণযোগ্যতা নেই। প্রার্থী দেখেই অনুমান করা যাচ্ছে কী হতে পারে। দলের সদিচ্ছাও বোঝা যাচ্ছে!”

–

–

–

–

–

