আকাশের যে চাঁদ দেখে ইদ হয়, সেই চাঁদ দেখে পালন করা হয় করবাচৌথও। এক মাসের রমজান শেষে আজ খুশির ইদে (Eid)এভাবেই হিন্দু- মুসলিম সম্প্রীতির বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।শনিবার সকালে রেড রোডে নমাজ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)সঙ্গে উপস্থিত হন অভিষেক। সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলার সৌভ্রাতৃত্ব অটুট রাখার কথা বলেন তিনি। যেভাবে ভাইয়ে ভাইয়ে লড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, সকলকে একজোট হয়ে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বার্তাও দেন তৃণমূল (TMC) সাংসদ। বাংলায় যে ভেদাভেদের রাজনীতি চলবে না তা এদিন আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক।


অভিষেক বলেন, যেকোনও পরব বা উৎসব আমাদের ধৈর্য, সম্প্রীতি, ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। এগুলো উৎসবের নিয়ম নয় বরং মনুষ্যত্বের ভিত। এই মানবিকতাকেই বজায় রাখতে হবে। যেভাবে ভাইয়ে ভাইয়ে লড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তার বিরুদ্ধে গিয়ে সকলকে একজোট হয়ে, একে অন্যের উৎসব-রীতিকে আপন করে বাংলার সম্প্রীতিকে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তাঁর কথায়, ‘হিন্দু মুসলিম একে অন্যের সুখে দুঃখে ,উৎসবে আনন্দে শামিল হবে এটাই বাংলার সংস্কৃতি। রমজান শব্দের ‘রাম’ থাকলে দিওয়ালির মধ্যে ‘আলি’র উপস্থিতি আছে। একই চাঁদ দেখে কারোর ইদ হয় তো কারোর করবাচৌথ। এটাই ভারতের ঐতিহ্য। যাঁরা ভাবেন নাম কেটে দিয়ে বাড়ি থেকে, দেশ থেকে ধাক্কা মেরে বের করে দেবেন, তাঁরা জেনে রাখুন গলা কেটে দিলে ও মাথা নিচু হবে না। নাম কাটা তো অনেক পরের ব্যাপার।’

অন্যান্য বছরের মত এ বছরও কলকাতার রেড রোডে নমাজ পড়তে উপস্থিত হন কয়েক হাজার মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা। অভিষেক বলতে শুরু করলে প্রত্যেককে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, রমজান মাসে সকলের রোজা উপবাস প্রার্থনা পূরণ হওয়ার শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই দেশ সকলের। এখানে যেমন মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শোনা যায়, সেভাবেই ভেসে আসে আজানের সুর। এটাই ভারত বর্ষ। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে যাঁরা একজনকে অন্যজনের সঙ্গে লড়িয়ে দিতে চায় , একে অন্যের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়, তাঁরা যতই শক্তি প্রয়োগ করুক না কেন বাংলার সম্প্রীতি নষ্ট করা যাবে না। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত বাংলার সংস্কৃতিকে অটুট রাখার বার্তাও দেন অভিষেক।

–

–

–

–

–

–

–

