বিশ্বসাহিত্য, থিয়েটার, শিল্প ও সংস্কৃতির নানা পরিসরকে একসূত্রে গেঁথে প্রকাশিত হল নাট্যকার-লেখক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর ২য় ও ৩য় খণ্ড। শনিবার বাংলা আকাদেমি সভাগৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই খণ্ডের প্রকাশ করেন কবি জয় গোস্বামী। প্রকাশনা ও আয়োজনে ছিল দে’জ পাবলিকেশন।


লেখকের দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সমালোচনা ও বিবিধ গদ্যের সংকলন এই গ্রন্থদ্বয়। ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর দ্বিতীয় খণ্ডে প্রধানত স্থান পেয়েছে বাংলা তথা বিশ্বসাহিত্য, থিয়েটার, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক আলোচনা। অন্যদিকে, তৃতীয় খণ্ডে কবি-জীবন, চলচ্চিত্র, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নিয়ে স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়ন উঠে এসেছে।

উল্লেখযোগ্য, ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। প্রায় সাত বছর পর প্রকাশিত এই দুই নতুন খণ্ড লেখকের ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল বলেই মনে করছেন সাহিত্য মহলের একাংশ।


অনুষ্ঠানে ব্রাত্য বসু জানান, সাহিত্য তাঁর কাছে কেবল নান্দনিকতার চর্চা নয়, বরং সময়ের দলিল। সমসাময়িক সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির টানাপোড়েনকে নিজের লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নেও তিনি জোরালো সওয়াল করেন। পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ও থিয়েটারের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, জয় গোস্বামী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, ব্রাত্য বসুকে তিনি শুধু রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন না; তাঁর কাছে তিনি প্রথমত একজন নিষ্ঠ সাহিত্যিক ও নাট্যকার। ব্রাত্যর গদ্যের ভাষাকে ‘নির্মেদ ও তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণধর্মী’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। কবির মতে, অতিরঞ্জন নয়, যুক্তিনির্ভর ও সৎ দৃষ্টিভঙ্গিই ব্রাত্য বসুর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য, যা পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে। সাহিত্য, সমাজ ও রাজনীতির বহুমাত্রিক প্রতিফলন নিয়ে ‘গদ্যসংগ্রহ’-এর এই দুই খণ্ড ইতিমধ্যেই পাঠকমহলে কৌতূহল তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন – ‘ধর্মে’ ফেল, ভোটে জিততে প্রকাশ্যে টাকা বিলি বিজেপি প্রার্থীর

_

_

_

_
_
