Saturday, May 2, 2026

কমিশনের সাহায্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের চেষ্টা! কবিতা-গান-যুক্তিতে প্রতিবাদ গণমঞ্চের

Date:

Share post:

নির্বাচনের আগে বাংলার প্রশাসনকে পঙ্গু করে দেওয়ার পরিকল্পনা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের। হাতিয়ার নির্বাচন কমিশন। সেই লক্ষ্যে এবার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে যথেচ্ছভাবে বাংলার প্রশাসন ও পুলিশের আধিকারিকদের বদলির বিরোধিতায় সরব দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ (Desh Banchao Ganomancho)। একদিকে যখন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই অপসারণের কুফল নিয়ে আলোকপাত করেন, অন্যদিকে কবি শ্রীজাত নিজের কবিতার মধ্যে দিয়ে এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানান। এদিন এই পদক্ষেপ কীভাবে রাজ্যের উপর রাষ্ট্রপতি শাসন চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি, তা যুক্তি দিয়ে পেশ করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার, পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, সমাজকর্মী অনন্যা চক্রবর্তী, অভিনেতা রাহুল চক্রবর্তী ও দেবমাল্য নন্দী।

রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সরিয়ে দিলে কীভাবে অসুবিধার সম্মুখিন হবেন বাংলার মানুষ তা পরিসংখ্যান দিয়ে তুলে ধরেন অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার। তিনি তুলে ধরেন, এই আধিকারিকরাই রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের পরিষেবাকে সচল রাখেন। রাজ্যের ৮৫ শতাংশ মানুষ বিভিন্নভাবে এই প্রকল্পগুলির সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাঁরা সব রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থক। আধিকারিকদের সরিয়ে দিলে এঁরা সবাই বঞ্চিত হবেন। সেই কথার রেশ ধরে সমাজসেবামূলক সংস্থার কর্ণধার দেবমাল্য নন্দী উল্লেখ করেন সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা। তিনি দাবি করেন, আধিকারিক তুলে নিলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে অভিযোগ জানাবেন তা নিয়ে অবশ্যই মানুষের সমস্যা হয়। পরিষেবা অবশ্যই বিঘ্নিত হয়। কার্যত এভাবে সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে কমিশন, তাঁর অভিযোগ।

রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে অন্যান্য সব গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সচিবদের তুলে নিয়ে কিভাবে রাজ্যের প্রশাসনকে পঙ্গু করতে চেয়েছে তা তুলে ধরেন অনন্যা চক্রবর্তী। বাস্তব ছবি তুলে ধরে তিনি জানান, রাজ্যে শিশুদের উপর বা মহিলাদের উপর কোনও অত্য়াচারের বা অন্যায়ের ঘটনা ঘটলে সেই বিষয়ে রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ কমিশনকে (WBCPCR) পদক্ষেপ নিতে হয়। কিন্তু সেই দফতরের সচিবকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ফলে এই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগই কমিশনের (WBCPCR) কাছে এসে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে তাঁদের পক্ষেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঠিক এভাবেই রাজ্যের প্রশাসনের কাজ বন্ধ করছে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন : রেখা পাত্রকে প্রার্থী মানেন না: জেলা বিজেপির বিক্ষোভ কলকাতায়

আদতে সবটাই কীভাবে বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে হচ্ছে, তা স্পষ্ট করেন পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী ও চিকিৎসক শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত। হরনাথ চক্রবর্তী ‘ধন্যি মেয়ে’ চলচ্চিত্রের উদাহরণ তুলে ধরে দাবি করেন, কেন্দ্রের বিজেপি বলে যাচ্ছে আর নির্বাচন কমিশন (Election Commission) রেফারি রবি ঘোষের ভূমিকা পালন করছে। আদতে তা যে কতটা সত্যি তা ব্যাখ্যা করেন শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত। তার জন্য তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ার উল্লেখ করেন। দেশের প্রধান বিচারপতিকে সেই নির্বাচকদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ হয়। ফলে এখন এই পদে যিনি বসেন তিনি সিলেক্টেড। তাই তিনি এই পদের যোগ্য নন বলেও দাবি করেন তিনি।

Related articles

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা, সিসিটিভিহীন ঘরে ব্যালট ঢোকানোর অভিযোগ!

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে (Khudiram Anushilan Kendra) শনিবার ভোট ৪টে নাগাদ সিসিটিভি নজরদারি (CCTV surveillance) নেই এমন ঘরে ৮টি...

আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন, সকাল ৭টা থেকে শুরু ভোটগ্রহণ

বাংলার দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে (Second phase of West Bengal Assembly Election) ১৪২টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ হয়েছে গত ২৯ এপ্রিল।...

তরমুজ না কি বিষক্রিয়া? ময়নাতদন্তে সবুজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখে চোখ কপালে তদন্তকারীদের

মুম্বইয়ে জে জে মার্গ এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনা! গ্রীষ্মকাল মানেই ঘরে আসবে তরমুজ আমের মত ফল কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাতে...

৫৭তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অফ ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর হলেন আশুতোষ গোয়ারিকর

ভারতকে এনে দিয়েছিলেন অস্কার! ‘লাগান’, ‘স্বদেশ’, ‘যোধা আকবর’-এর মতো একাধিক সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। এবার সেই পরিচালকের হাতে...