ভোট ঘোষণার (West Bengal elections) পরেই প্রশাসনিক মহলে শীর্ষস্তর থেকে জেলাস্তরে ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যাপক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। একে সামনেই ভোট তার উপরে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কমিশনের চাপিয়ে দেওয়া পোস্টিং। বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন করা হবে বলে কমিশন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা রক্ষার দায় পুলিশের উপরেই চাপানো। তাই ভোটের আগেই শান্তি বজায় রাখতে তৎপরতা রাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ আধিকারিকদের। এলাকা পরিদর্শন করেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা (Bidhannagar CP Murlidhar Sharma)। বারুইপুরে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন ডিআইজি কঙ্করপ্রসাদ। এদিন প্রেস মিট করলেন বসিরহাটের পুলিশ জেলার সুপার-অলকানন্দা ভাওয়াল। অন্যদিকে রবিবার বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য জেলার প্রতিটি থানা ঘুরে দেখেন।

বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা জানিয়েছেন, ভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৬ দফা অগ্রাধিকার ভিত্তিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে ইলেকশন কমিশনের তরফ। নির্দেশিকায় হিংসা ছাড়া ভোট করা, ভোটারদের উপর অযথা প্রভাব ও ভয়ভীতি দেখানো বন্ধ করতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বুথ দখল বা বুথ জ্যামিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, উত্তেজনাময় এলাকায় অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং ভুয়ো ভোটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন: কমিশনের নির্দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ: ভাঙড়ে পরিদর্শনে সিপি অজয় নন্দা

বারুইপুরে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ডিআইজি কঙ্করপ্রসাদ জানান,”নির্বাচন নিয়ে প্রত্যেক অফিসারকে আমরা কী করণীয়, কী কী করবো তা জানাচ্ছি। ইলেকশন কমিশনের যে মোটো তা সব অফিসার থেকে হোমগার্ড সবাই যেন জানে বোঝে সেই বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে। নির্বাচন যাতে ভয়হীন ভাবে হয় সেই দিকে আমরা নজর রাখছি।”

অন্যদিকে রবিবারেই বিধানসভা ভোট নিয়ে প্রেস মিট করলেন বসিরহাটের পুলিশ জেলার সুপার-অলকানন্দা ভাওয়াল। তিনি বলেন, “ভোটাররা এবার নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা করা হবে। ল অ্যান্ড অর্ডারের যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয় তার জন্য প্রশাসন সবরকম ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি কোনও রকম অশান্তির খবর পেলে সাধারণ মানুষ যাতে প্রশাসনকে খবর দিতে পারে তার জন্য আমাদের কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।”

ইতিমধ্যেই রবিবার বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য জেলার প্রতিটি থানা ঘুরে দেখছেন। তিনি এদিন বাঁকুড়ার সদর থানায় পৌঁছে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রতিটি থানা পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে। এবার কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ছাড়াই যাতে মানুষ অবাধ, শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ভোট নিজেই দিতে পারেন তা সুনিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এই জেলায় স্পর্শকাতর বুথ ও স্পর্শকাতর ভোটার চিহ্নিতকরণের কাজ ইতিমধ্যে অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সেই সংখ্যাও জানিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারিও নিয়ম মেনেই হচ্ছে বলে তিনি জানান।

–

–

–

–

–
