ট্রাফিক আইন (Traffic violations) ভাঙার ক্ষেত্রে ডিজিটাল নজরদারি (digital surveillance) বাড়ায় রাজ্যে অনলাইন বা ই-চালানের সংখ্যা বেড়েছে। ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা ধার্য হওয়ায় আরও বেশি আইন ভাঙার ঘটনা সামনে আসছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ই-চালানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩.৫৩ লক্ষ, যেখানে মোট জরিমানা আদায় হয়েছে প্রায় ১৩.৯৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে রাজ্যে মোট ৩৯.৫৫ লক্ষ চালান কাটা হয়, যার মাধ্যমে আদায় হয় ২০৫.৬৮ কোটি টাকা। এর আগের বছর ২০২৪ সালে ২৭.১৫ লক্ষ চালান থেকে ১৮২.৪৯ কোটি এবং ২০২৩ সালে ২৩.০৪ লক্ষ চালান থেকে ২১২.৬৭ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর চালানের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। কিন্তু প্রতি চালানে গড় জরিমানার অঙ্ক কমছে। ২০২৩ সালে যেখানে গড়ে প্রায় ৯২৫ টাকা আদায় হতো প্রতি চালানে, ২০২৪-এ তা নেমে আসে প্রায় ৬৭২ টাকায় এবং ২০২৫ সালে আরও কমে দাঁড়ায় প্রায় ৫২০ টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। ই-নজরদারি বাড়ায় সিগন্যাল ভাঙা, হেলমেট না পরা বা বেআইনি পার্কিং—এর মতো ঘটনাও বেশি ধরা পড়ছে। ফলে মোট চালানের সংখ্যা বাড়লেও বড় অঙ্কের জরিমানার অনুপাত তুলনামূলকভাবে কমছে। পাশাপাশি, জরিমানা আদায়ে বকেয়া থাকাও গড় অঙ্ক কমার একটি কারণ হতে পারে। আরও পড়ুন: শহিদ ভগৎ সিং-রাজগুরু-সুখদেবের মৃত্যু বার্ষিকীতে তিন দেশনায়ককে স্মরণ মমতার

অন্য রাজ্যের সঙ্গে তুলনায় ছবিটা আরও স্পষ্ট। উত্তরপ্রদেশে বিপুল সংখ্যক চালান কাটা হলেও প্রতি চালানে গড় জরিমানা অনেক কম। আবার মহারাষ্ট্র বা রাজস্থানে প্রতি চালানে জরিমানার অঙ্ক অনেক বেশি, যা কঠোর জরিমানা আদায়ের ইঙ্গিত দেয়। সেই তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলেও, গড় জরিমানা কমার প্রবণতা প্রশাসনের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, ই-চালান ব্যবস্থার ফলে ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ কমেছে এবং লঙ্ঘন শনাক্তকরণ আরও নির্ভুল হয়েছে। তবে জরিমানা দ্রুত আদায়, তথ্যভাণ্ডারের সমন্বয় এবং শহরের বাইরে নজরদারি বাড়ানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।

–

–

–

–

–

–

–
