হাতে আর মাত্র এক মাস, তারপরই বাংলায় প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। মাঠে-ময়দানে জনমত সমীক্ষা হোক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ওপিনিয়ন পোল – সবেতেই এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। গত তিন নির্বাচনের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) মুখ্যমন্ত্রী করার লক্ষ্যে মাঠে নেমে পড়েছে রাজ্যে শাসক দল। আজ থেকে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলবেন স্বয়ং নেত্রী। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের চালসা থেকে নিজের প্রচার অভিযান শুরু করবেন মমতা। দক্ষিণে পাখির চোখ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। এদিন পাথরপ্রতিমায় জনসভা করে ভোটযুদ্ধের সুর বেঁধে দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)।

‘যতই করো হামলা আবার জিতবে বাংলা’র সুর সামনে রেখে দলের তরফ থেকে প্রচারের স্লোগান বেঁধে দেওয়া হয়েছে, ‘যে লড়ছে সবার ডাকে/সেই জেতাবে বাংলা মাকে’। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র এই স্বর ধ্বনিত হচ্ছে তৃণমূলের নেতা থেকে কর্মী সকলের মধ্যে। একই দিনে দলের দুই শীর্ষ নেতার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চনমনে মেজাজ তৃণমূল শিবিরে। দুই সভাস্থলে সকাল থেকে দলীয় কর্মীর সমর্থকদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ— রাজ্যের ২৯১টি বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই দেওয়াল লিখন, ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পেন এবং কর্মিসভার মাধ্যমে প্রচারের শিরোনামে রয়েছেন। এবার মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেকের সভার মাধ্যমে সেই প্রচারে বাড়তি অক্সিজেন পেতে চলেছে দল।

আসন্ন নির্বাচনে প্রচারের মূল হাতিয়ার হিসেবে উঠে আসছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিতর্ক। মাস চারেক আগে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তাকে বিজেপির চক্রান্ত বলে বারবার সরব হয়েছেন মমতা। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছেন তিনি। এমনকি প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রকাশিত হয়েছে সোমবার প্রায় মধ্যরাতে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আজকের জনসভাগুলিতেও শাসকদলের প্রধান ইস্যু হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আজ দুপুর দুটোয় পাথরপ্রতিমা কলেজ গ্রাউন্ডে তৃণমূল প্রার্থীর সমীর কুমার জানার (Samir Kumar Jana) সমর্থনে সভা করবেন অভিষেক। রাজ্যে দুই প্রান্তে তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তার দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।

–

–

–

–

–

–

–
–
