চালসার পর বুধবার ময়নাগুড়িতে জনসংযোগ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে একহাত নিলেন দলনেত্রী। একইসঙ্গে চা শ্রমিক এবং আলুচাষিদের পাশে থাকারও আশ্বাস দিলেন। ক্ষোভ উগরে দিলে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়েও। ময়নাগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে রাজ্যে ঘটে চলা একের পর এক ঘটনা প্রসঙ্গে সরব হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

বিজেপির বঙ্গভঙ্গের চক্রান্ত ফাঁস করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলা রাজ্যটাকেই ওরা তুলে দিতে চায়। অনেক প্ল্যানিং করেছে। ক্ষমতায় এলে দেশটা বেচে দেবে।” এরপরই তিনি বলেন, “আপনাদের বিহারের সঙ্গে নিয়ে যাবে বলে পরিকল্পনা করেছিল। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোকে আমি আটকেছি। কয়েকদিন আগে সোশাল মিডিয়ায় প্ল্যানটা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে গর্জন করেছি।” এরপরই আমজনতাকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, মানুষের জন্য আমি রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট অবধি লড়াই করেছি। প্রয়োজনে আবার করব।”

বিজেপি শুধু বিজ্ঞাপনে থাকে বলে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”ওরা মিথ্যা বলে আর মানুষকে লাইনে দাঁড় করায়। সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করে, বিজ্ঞাপন করে। আমরা পরিষেবা দিচ্ছি। আধার কার্ড দেখালে বলছে নো পাপা। ভোটার অধিকার কাড়া ইয়েস পাপা। দুই ভাই (বিজেপি-কমিশন) যত পারে চক্রান্ত করে। আমার মা-বোনেরা তৈরি আছে। একজনের নাম বাদ গেলেও দেখে নেব। ভোটচুরি রুখে দেবেন মা-বোনেরা। আপনারা জানেন। ছেলেদের পিছনে রাখবেন। আপনারা সামনে থাকবেন।” তাঁর দাবি, “অনেক পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। বাংলা রাজ্যটাই তুলে দিতে চায়। বিহারের সঙ্গে জুড়ে দেবে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে আমি আটকেছি। কয়েক দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেরিয়ে যায়।” আরও পড়ুন: কমিশনের নির্দেশে ৩৪ জন চিকিৎসক ভোটের ডিউটিতে, সরব কুণাল

বিজেপি-স্ট্যাম্প নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কখনও শুনেছেন, নির্বাচন কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির চিহ্ন দিচ্ছে। জীবনে কখন দেখেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির দলীয় পতাকা নিয়ে যাচ্ছে! লজ্জা করে না। কোথায় এই লজ্জা ঢাকবেন বিজেপি নেতৃত্ব?” পেট্রলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন,”পেট্রোলের দাম বেড়েছে। সব জিনিসের দাম বেড়েছে। এটা আমার হাতে নেই। এখন তো আমার হাত থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। আমার হাতে একটাই আছে, সেটা মানুষ। বিজেপি পার্টি ভ্যানিশ পার্টি।”

আলুচাষিদের পাশে থাকার কথা বলে দলনেত্রী জানিয়েছেন,”চিন্তার কারণ নেই। শস্যবিমা আছে। সকলে ক্ষতিপূরণ পাবেন। আগে থেকেই তা করা আছে। শস্যবিমার টাকা কৃষকদের দিতে হয় না।” এদিন একইসঙ্গে চাশ্রমিকদের তিনি জানান,”ওরা মিথ্যা কথা বলে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিই না, করে দেখাই। চা-বাগান খোলা রাখতে, চা সুন্দরী চালু রাখতে তৃণমূলকে ভোট দিন।” পাশাপাশি মেয়েদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চিরদিন চলবে বলেও আশ্বাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

ময়নাগুড়িতে উন্নয়ন প্রসঙ্গে দলনেত্রী বলেন,”ময়নাগুড়ি আমার পছন্দের জায়গা। জল্পেশ শিবমন্দিরে ৫ কোটির স্কাইওয়াক করে দিয়েছি। নতুন হাসপাতাল হয়েছে। পলিটেকনিক হয়েছে। ময়নাগুড়ি ব্লকে ১৬৩ কোটি খরচে জলপ্রকল্প হয়েছে। ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দেব। আমাদের ইস্তেহারে আছে। চ্যাংরাবান্দা থেকে জোড়পুখরি ১৪ কিমি রাস্তা মানোন্নয়ন হয়েছে।”

বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”সব কেড়ে নিয়েছে, আমার হাতে শুধু মানুষ আছে। বিজেপি আসলে ভ্যানিশ পার্টি। কখনও শুনেছেন নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বিজেপির চিহ্ন? সেন্ট্রাল ফোর্স বিজেপির ফ্ল্যাগ নিয়ে যাচ্ছে। লজ্জা করে না? বিজেপির গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত।” দুটি গ্যাসের বুকিংয়ের সময়সীমা নিয়েও তোপ দাগেন তিনি। “এখন বলছে, দুটো গ্যাস বুক করতে চাইলে ৩৫ দিন লাগবে। গ্যাস বেলুনের গ্যাস বেরিয়ে গিয়েছে। মানুষ খেতে পাবে না, আবার পুরোনো দিনে ফিরে যেতে হবে।”

এদিন এসআইআর নিয়ে সরব হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এসআইআর করে রাজবংশীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এসআইআরে মৃত্যুর দায় কে নেবে? ওরা (বিজেপি) হিংসুটে দল। নোটবন্দি মনে আছে? SIR-র লাইনেও দাঁড় করিয়েছে। এ দেশের নাগরিককে বলছে প্রমাণ দিতে হবে তাঁরা নাগরিক কি না। মহিলাদের নাম কেটে দিয়েছে।”

সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোপ দেগে বলেন,”মধ্যরাতে স্বাধীনতা এনেছিল, আমরা গর্ব করি। আজ সে সব ভুলে গণতন্ত্র মানছে না, ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। কাল বলবে এনআরসি করবে, ডিটেনশন ক্যাম্প করবে। আমি বেঁচে থাকতে এ সব হবে না। আমার পরে আমার জেনারেশনও সে সব অ্যালাও করবে না।’

ময়নাগুড়ির সভা থেকে কেন্দ্র বাহিনীকে বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করি। কিন্তু মনে রাখবেন, জনগণের শক্তিই আসল শক্তি। দিল্লি এখন দিল্লিতে ক্ষমতায় আছে, পাল্টে যাবে। আপনারা আপনাদের (কেন্দ্রীয় বাহিনী) কাজ সম্মানের সঙ্গে করুন।” তার পরেই তোপ, “যদি ভোটের সময় আপনারা বিজেপির পোলিং এজেন্ট হয়ে গেলে, আমাদের মা-বোনেরা আছেন, তাঁরা দেখে নেবেন। আমরা কিছু করব না।”
প্রার্থীদের সাবধানবাণী দলনেত্রীর। তুললেন অসম প্রসঙ্গ। ময়নাগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায়কে পাশে নিয়ে মমতা বলেন, প্রত্যেক প্রার্থীকে বলব, অসমে বহু নমিনেশন রিজেক্ট করেছে। এটার থেকে শিক্ষা নিন। সকলে আইনজীবী নিয়ে যাবেন। সব কাগজ ভালো করে দেখে রাখবেন।
বিজেপিকে অ্যান্টি বেঙ্গল বলে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন,” ‘৪ তারিখে কাউন্টিং হবে। ১-২-৩-৪, বিজেপির হবে হার। ১-২-৩-৪ তৃণমূল জিতবে আবার।”
বিজেপিকে বিঁধে মমতা বললেন, “কে কী খাবে, মেয়েরা কী পরবে ওরা বলবে? আমরা সবাইকে সম্মান করি। বিজেপির একজন মন্ত্রী বলে গিয়েছেন, গাছে বেঁধে পেটাবেন। আমি বলি, গাছ আমাদের, অরণ্য আমাদের। গাছ মানুষকে ছায়া দেয়। পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে আমি বিজেপি করি না। দিল্লির দুই ভদ্রলোককে বিদায় দিন। না দিলে দেশ বেচে দেবে।”
