সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চে একটি ধর্ষণের মামলার রায় দেয় আদালত। বৃহস্পতিবার সেই রায় প্রকাশ্যে এলে জানা যায় নাবালিকাকে ধর্ষণের ওই মামলায় এক অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করেছে সুপ্রিম কোর্ট(Supreme Court)। কোনও ধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতার নাম-পরিচয় গোপন রাখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের(Supreme Court) আগের নির্দেশের কথাও রায়ের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের মামলায় নির্যাতিতার নাম-পরিচয় গোপন রাখতে স্পষ্ট ‘গাইডলাইন’ রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের। কিন্তু সেই নির্দেশ পালনে গাফিলতি রয়েছে বলে জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। ধর্ষণের মামলায় নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখার নির্দেশ যাতে কঠোর ভাবে পালন করা হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক, জানাল শীর্ষ আদালত। দেশের সব হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এই মর্মে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিনের এই রায়ের শেষ অনুচ্ছেদে দুই বিচারপতির বেঞ্চের তরফে লেখা হয়েছে, এই রায়ের প্রতিলিপি সকল হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন নিপুণ সাক্সেনা বনাম ভারত সরকার মামলার রায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জানানো হয়েছে ওই মামলায় রায়ে নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ্যে না আনার বিষয়ে কিছু বাধ্যবাধকতার উল্লেখ করা হয়েছে। ওই নির্দেশ কঠোর ভাবে মানতে হবে। সেটা নিশ্চিত করতে সব হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে মঙ্গলবারের রায়ের প্রতিলিপি পাঠাতে বলা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, ধর্ষণ মামলায় নির্যাতিতার গোপনীয়তা রক্ষা করা শুধুমাত্র আইনি বিষয় নয়, এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক অংশ। ভবিষ্যতে এই নির্দেশ অমান্য হলে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলায় নির্বাচনে আরজিকর ঘটনায় নির্যাতিতার মা প্রার্থী হওয়ায় তাঁর ও তাঁর আত্মীয়দের নাম প্রকাশ নিয়ে আইনি জটিলতার কারণেই সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় নেয় পদ্ম শিবির। নির্যাতিতার মা প্রার্থী হলে তাঁর নামে দেওয়াল লিখন বা ব্যানার পোস্টারে ছবি ছাপা হবে কী ভাবে এই নিয়েও বিভিন্ন মহলে ওঠে প্রশ্ন

। এই প্রসঙ্গে নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছিলেন নিজেদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে আদালতে দু’বার হলফনামা জমা দিয়েছেন তাঁরা। তবে আদালত সেটা খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের তরফে জানান হয়েছিল একান্তই পরিচয় প্রকাশ করতে চাইলে একজন সেশন জজের উপস্থিতিতে লিখিত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যার মানে এটাই হয় অভয়ার মা-বাবা মেয়ের বিচার চেয়ে যে ছবি বিভিন্ন পরিসরে পোস্ট করেছেন সেটা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

–

–

–

–
–
