ষাটের কোঠায় হলে বয়স হলে এমনিতেই বিভিন্ন রোগব্যাধি চেপে ধরে। তার উপর যদি শরীরে থাবা বসায় ক্যান্সারের (Cancer) মতো মারণ রোগ, তখন অনেকেই জীবনের আশা ছেড়ে দেয়। অনেক সময় হাল ছেড়ে দেন চিকিৎসকরাও। কিন্তু মৃত্যুকে তুড়ি মেরে একই সঙ্গে স্তন (Breast Cancer) এবং ডিম্বাশয়ের (ওভারিয়ান) অ্যাডভান্সড ক্যান্সার (Advanced Overian cancer) কে জয় করে ২০২৬-এ দিব্যি সুস্থ ও স্বাভাবিক ৬৭ বছর বয়সী শিখা ঘোষ।
২০২১ সালের নভেম্বর মাসে হঠাৎই স্তনে শক্ত পিণ্ড আর তলপেট অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়ায় হাসপাতালে ছোটেন শিখা ঘোষ। পরীক্ষা চলতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ধরা পড়ে তিনি ট্রিপল নেগেটিভ (Triple negative) স্তন ক্যানসার এবং সেই সঙ্গে অ্যাডভান্সড ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত। এদিকে তাঁর শরীরে আগে থেকেই ছিল ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা। আরও পড়ুন: নেপালের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ জেন জি নেতা বলেন্দ্রের, অভিনন্দন মোদির

শিখাকে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখলেন লড়াইটা আসলে বংশগত। তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছিল বিআরসিএ ১ (BRCA 1) মিউটেশন, যার পোশাকি নাম ‘হেরেডিটরি ব্রেস্ট অ্যান্ড ওভারিয়ান ক্যান্সার সিনড্রোম’ (HBOS)।যেখানে বংশগত কারণেই এই দুই ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলেও চিকিৎসকরা এবং ওই প্রৌঢ়া হাল ছাড়েননি। ধাপে ধাপে সাজানো হয় এক নিখুঁত অপারেশন প্ল্যান। প্রথমে কেমোথেরাপির মাধ্যমে টিউমারের আকার কমিয়ে আনা হয়। সফল সার্জারির মাধ্যমে প্রথমে স্তনের ক্যান্সার এবং পরে জরায়ু, ডিম্বাশয় সহ আক্রান্ত টিস্যুগুলি শরীর থেকে সমূলে উপড়ে ফেলা হয়। জেনেটিক ত্রুটির কথা মাথায় রেখে তাঁর উপর প্রয়োগ করা হয় আধুনিক ওলাপারিব (Olaparib) নামক টার্গেটেড থেরাপি।

গত তিন বছরের প্রতিটি ফলো-আপ আর স্ক্যান রিপোর্ট বলছে, শিখার শরীরে মারণ রোগের ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই। রক্তে ক্যান্সার মার্কারের মাত্রা এখন একদম স্বাভাবিক। ২০২৬-এর মার্চ মাসের আপডেট অনুযায়ী, তিনি এখন একটি স্থিতিশীল ও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। চিকিৎসকদের মতে, এই জয় আসলে বিজ্ঞানের জয় আর রোগীর পাহাড়প্রমাণ ধৈর্যের ফসল। ক্যান্সার মানেই জীবনের শেষ নয়, তা প্রমাণ হয়ে গেল।

–

–

–

–

–

–

–
