নওদার সভা থেকে দলের কর্মীদের সতর্ক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তৃণমূলে (TMC) থেকেও অনেক কর্মী, বুথ স্তরের নেতৃত্ব হুমায়ুনের দলকে সাহায্য করছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন অভিষেক।

‘দু-মুখো’ রাজনীতিকে দল প্রশ্রয় দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন অভিষেক। তাঁর কথায়, “যাঁরা যে দলের জার্সি পরে আছেন, সেই দলের হয়ে খেলুন। অন্য দলের হয়ে খেলতে গেলে একমাস পরে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে করে দেবে, বাকি জীবনটা আর মাঠে ঢুকতে পারবেন না।” আরও পড়ুনঃ মৃত মুজতবা আলি খামেনেই! চাঞ্চল্যকর দাবি ট্রাম্পের

অভিষেকের সভার আগে সভামঞ্চের সামনে দলের একদল কর্মী বিক্ষোভ দেখান। চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। জেলার নেতারা তখনকার মতো পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে উঠে ঘটনার কথা উল্লেখ না করে কড়া বার্তা দিলেন তিনি। সাফ জানালেন,”দলকে চাপে রাখতে কেউ যদি মনে করেন বিশৃঙ্খলা করবেন, তাহলে দল কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।”

অভিষেক আরও জানান,”আমি হাবিবকে (ব্লক সভাপতি) বলে দেব, ও যেমন ব্লকস্তরটা দেখছিল, তেমনই দেখবে এখনও। আর যদি কারও মনে হয়, প্রার্থীর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হচ্ছে, তাহলে সে জেনে রাখবেন, নওদা আসনে প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমার সবার উপর নজর থাকবে।”

এ দিনের সভায় অভিষেকের কড়া বার্তা, “আমি কিন্তু ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি। আমার ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ-অপছন্দের কোনও বিষয় নেই।” অভিষেকের নিশানায় ছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী ও নতুন দলের নেতা হুমায়ুন আহমেদ। অভিষেক বলেন, “বিজেপি মুর্শিদাবাদ জিততে তিনটে এজেন্ট পাঠিয়েছে। প্রথমজন অধীররঞ্জন চৌধুরী, দ্বিতীয় হুমায়ুন কবীর এবং তৃতীয় হচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার।”

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সাহিনা মমতাজ। তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে কিছু অসন্তোষ থাকলেও নির্বাচনের আগে দ্বন্দ্ব ভুলে লড়াইয়ে নামার কথা জানান অভিষেক। তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘যদিও প্রার্থী নিয়ে কোনও সমস্যা হয়, আপনি ধরে নেবেন মুর্শিদাবাদের নওদা থেকে আপনাদের প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাকে দেখে ভোট দেবেন। এই লড়াই বাংলার কৃষ্টি, অধিকার রক্ষা করার লড়াই।’

জেলার কিছু নেতা শুরুতে হুমায়ুনের সঙ্গে থাকলেও ধীরে ধীরে তাঁরা মুখ ফেরাচ্ছেন বলেও দাবি করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, “গত ডিসেম্বর মাসে যখন বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, তখন বলেছিলেন কেন মসজিদ করবে না? হুমায়ুনের পক্ষ নিয়ে সওয়াল করেছিলেন। গত দু’মাসে হুমায়ুনের চাল-চলন, মুখের ভাষা, ব্যবহার দেখে মনে করেছে, হুমায়ুনকে সমর্থন করা আর খাল কেটে কুমির আনা এক ব্যাপার।”

–

–

–
–
–
