বাংলার মনীষীদের নানাভাবে অপমান করার প্রথা বিজেপির সর্বস্তরে। যখন পদ্মদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরাই এই কাজে সিদ্ধহস্ত তখন তো গেরুয়া শিবিরের চুনোপুটি থেকে রাঘব বোয়ালরা তো অবনীলায় সেই একই পথে হাঁটবেন। এটাই বিজেপির সংস্কৃতি, ফের তার প্রমাণ মিলল। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় জাতীয়তাবাদী নেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhash Chandra Bose) মূর্তি মোড়া হল গেরুয়া ঝান্ডায়! মূর্তির গায়ে পা দিয়ে কাঁধে চড়ে নেতাজির হাতের মুঠোয় গুঁজে দেওয়া হল বিজেপির পতাকা। এমনকি পাশে টাঙানো জাতীয় পতাকা বেঁধে রাখার স্টিকও ভেঙে দেওয়া হল। যদিও গেরুয়া বাহিনীর থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করাও বিলাসিতা! একাধিকবার বাংলার মনীষীদের নাম বিকৃত করে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের। কিন্তু তাতে লজ্জা কোথায়? এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদহের মানিকচকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে এভাবেই চূড়ান্ত অসম্মান করার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলল বিজেপি। দেশনায়কের মূর্তিতে যখন এভাবে পতাকা লাগানো হচ্ছিল তখন সেখানেই একটি ধর্মীয় মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের (Manikchalk Assembly) বিজেপি প্রার্থী গৌরচন্দ্র মণ্ডল (Gour Chandra Mondal)।

এরপরেই অভিযোগ ওঠে, বিজেপি প্রার্থীর মদতেই তাঁর অনুগামীরা এই ধরণের নিম্নরুচির ঘটনা ঘটিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মানিকচকের বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ-সহ নেতাজিকে অপমান এবং জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ এনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই জেলাজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এমনকি নিন্দার ঝড় বইছে দেশজুড়ে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন।

বিজেপির তরফে সাফাই দেওয়া হয়েছে রামনবমী মিছিলে হচ্ছিল এবং সেই মিছিল থেকে কে কী করেছে সেটা নেতৃত্বের জানা নেই। যদিও এই যুক্ত ধোপে টিকছে না। বিরোধীদের দাবি ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে এবং জাতীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের পোস্টারও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। কিছু জায়গায় বিকৃতও করা হয়েছে। সূত্রের খবর, রামনবমীর ধর্মীয় শোভাযাত্রায় রাজনৈতিক স্লোগানও দেওয়া হয়। মানিকচক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তৃণমূলের পোস্টার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়। একাধিক যুবকের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র। তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি তারোয়াল দিয়ে কেটে দেওয়া হয়। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয় গৌরচন্দ্র মণ্ডলের উসকানিতে এই সমস্ত ঘটনা ঘটেছে।

–

–

–

–

–

–

–
–
