আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি তুঙ্গে। তবে বুথ পুনর্বিন্যাসের জেরে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি বুথ সামাল দিতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানাল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ভোটারদের সুবিধার্থে এবং ভিড় এড়াতে এবার বুথ বিন্যাসে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আগে রাজ্যে মোট বুথের সংখ্যা ছিল ৮০,৭১৯। কিন্তু কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও একটি বুথে ১,২০০-র বেশি ভোটার রাখা যাবে না। এই নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, রাজ্যে আরও ৪,৬৬০টি নতুন বুথ তৈরির প্রয়োজন পড়ছে। ফলে বুথের মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় আগের নিরাপত্তা ছকে বদল আনা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য ২,৪০০ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যে হারে বুথ বাড়ছে, তাতে এই বাহিনী দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। সিইও দফতরের হিসাব অনুযায়ী, অতিরিক্ত বুথগুলির সুরক্ষায় আরও অন্তত ১২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন। সেই মর্মে বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়ে দিল্লির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

রাজ্য পুলিশের একাংশ মনে করছে, বুথ বাড়লে যেমন ভোটারদের লাইন কম হবে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সহজ হবে, তেমনই প্রত্যেকটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করাও বড় চ্যালেঞ্জ। কমিশন অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, বুথ যেখানেই হোক, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোটদান নিশ্চিত করতে কোনও আপস করা হবে না। এখন দেখার, রাজ্যের এই বাড়তি বাহিনীর আবেদনে সাড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কত দ্রুত বাহিনী পাঠানোর সবুজ সংকেত দেয়। কারণ বাহিনীর সংস্থান এবং তাদের আবাসন ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করছে ভোটের নিরাপত্তা বিন্যাসের চূড়ান্ত রূপরেখা।

আরও পড়ুন – সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ: ট্রাইবুনাল নিয়ে তথ্য পেশ কমিশনের

_

_

_

_
_
_
_
