সৃজনশীলতা বা স্বাধীন চিন্তাভাবনা কোনও কিছুকেই সমর্থন করে না মোদি সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Govt) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ঘিরে থিয়েটার (Theatre) ও পারফর্মিং আর্টিস্টদের (Performing Artist) মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে (Calcutta Press Club) সাংবাদিক বৈঠক (Press Conference) করল ওয়েস্টবেঙ্গল পারফর্মিং আর্টিস্টস কমিউনিটি (West Bengal Performing Artists Community)। শিল্পীদের দাবি, কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধের সিদ্ধান্তে সারা দেশে বহু নাট্যদল ও শিল্পীরা সংকটে পড়তে চলেছেন।

সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, গত ৩০ মার্চ কলকাতার তপন থিয়েটারে (Tapan Theatre in Kolkata) ওয়েস্ট বেঙ্গল থিয়েটার কমিউনিটির (West Bengal Theatre Community) উদ্যোগে এক জরুরি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নাট্যকর্মী ও পারফর্মিং আর্টিস্টরা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই সমাবেশে গৃহীত প্রস্তাবের কথাও সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

শিল্পীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার থিয়েটার, নৃত্য, মাইম ও পাপেট থিয়েটারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা অনুদান বাতিল করেছে। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের একটি সাম্প্রতিক সার্কুলারের ফলে স্যালারি গ্রান্ট এবং গুরু-শিষ্য পরম্পরা প্রকল্পের আওতায় থাকা বহু শিল্পী ও নাট্যদলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়।

নাট্যকর্মীদের বক্তব্য, প্রায় ৬০ বছর ধরে পারফর্মিং আর্টসের উন্নয়ন ও শিল্পীদের সহায়তার জন্য এই অনুদান চালু ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই ধারাবাহিকতায় ধাক্কা লেগেছে। গত কয়েক বছর ধরেই কোনও কারণ না দেখিয়ে কিছু দলের অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। এ নিয়ে শিল্পী ও কলাকুশলীরা বারবার প্রতিবাদ জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান হয়নি।

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ৩০০ নাট্যদলের অন্তর্গত প্রায় ২০০০ নাট্যকর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিল্পীরা। এর ফলে বহু নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সার্কুলারে একাধিক দলকে ‘কুলড অফ’ (Cool off) তালিকায় পাঠানো হয়েছে বা তাদের অনুদান বন্ধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি বলে দাবি শিল্পীদের। ফলে গোটা থিয়েটার মহলে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সাংবাদিক বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সংস্কৃতি মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও বলা হয়। তবে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন উপস্থিত শিল্পীরা।

শিল্পীদের মতে, থিয়েটার শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজের সাংস্কৃতিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই অনুদান বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব পড়বে গোটা সাংস্কৃতিক পরিসরের উপরেই।

–

–
–
