ক্যালেন্ডারের পাতায় চৈত্র শেষ হতে চললেও পাহাড়ের মেজাজ যেন মাঝরাতের পৌষ। গত কয়েকদিন ধরে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে টানা তুষারপাতের জেরে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছে সিকিম থেকে সান্দাকফু। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে এখন শুধু বরফের রাজত্ব। কোথাও পর্যটকদের উচ্ছ্বাস, কোথাও আবার স্থানীয়দের জীবনসংগ্রামে ফেরার লড়াই— সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মায়াবী অথচ রুদ্র রূপ ধারণ করেছে হিমালয়।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া তুষারপাত বিরতিহীনভাবে চলেছে। যার জেরে উত্তর সিকিমের লাচেন ও লাচুং কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু লেক, শেরাথাং, কুপুপ এবং গ্নাথাং এলাকা এখন পুরু সাদা বরফে মোড়া। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি— সবটাই ঢাকা পড়েছে তুষারের চাদরে। পর্যটকদের জন্য এই দৃশ্য স্বপ্নসুখের হলেও, স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গিয়েছে। ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের উচ্চতম বিন্দু সান্দাকফু এখন যেন সাদা স্বর্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৬৩৬ মিটার উচ্চতায় দাঁড়িয়ে পর্যটকরা দুচোখ ভরে দেখছেন এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোতসে ও মাকালুকে। বরফে পা ডুবিয়ে নীল আকাশ আর শ্বেতশুভ্র শৃঙ্গের এই মেলবন্ধন উপভোগ করতে ভিড় জমিয়েছেন বহু পর্যটক। তবে এই সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাড়ছে বিপত্তিও। পাহাড়ে তুষারপাতের জেরে বেশ কিছু জায়গায় পর্যটকরা আটকে পড়েছেন বলে খবর।

বিপাকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে ফের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। উত্তর সিকিমের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও)-এর সহযোগিতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সেনা জওয়ানরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী ফুটব্রিজ। বিশেষত বয়স্ক ও অসুস্থদের দিকে আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ৮০ বছরের এক অসুস্থ বৃদ্ধকে পাহাড়ের বিপজ্জনক পথ থেকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে এসেছেন জওয়ানরা।

প্রকৃতির এই খামখেয়ালি মেজাজে পাহাড় এখন একই সঙ্গে আকর্ষণীয় এবং বিপজ্জনক। পর্যটন ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও সিকিম এবং দার্জিলিং জেলা প্রশাসন পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সিকিমের উঁচু এলাকাগুলিতে যাওয়ার পারমিট দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। পাহাড়ের এই বরফ-বিলাস আগামী কয়েকদিন স্থায়ী হবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে পর্যটন প্রেমীরা।

আরও পড়ুন – শাহকে পদত্যাগ করতে বলুন: অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মোদিকে মোক্ষম জবাব তৃণমূল সুপ্রিমোর

_

_

_
_
_
_
