ইডি (ED) শব্দের অর্থ এখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) বদলে হয়ে গেছে ‘এক্সট্রিমলি ডেসপারেট’ (Extremely Desperate)। কেন্দ্রীয় সংস্থা যে নিরপেক্ষতা হারিয়েছে তা বাংলার মানুষ বুঝতে পেরে গেছে, মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে এভাবেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya)। রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচনের মুখে ভোট পরিচালন সংস্থা আইপ্যাকের অন্যতম কর্ণধারের গ্রেফতারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সংবিধান ধ্বংস করে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করেন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে বিজেপি – সংবিধান প্রণেতার জন্মদিনে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ তৃণমূলের। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে এভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারের দুরভিসন্ধির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন (Derek O Brayen) ও বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সোমবার গ্রেফতার করা হয় আইপ্যাকের অন্যতম কর্ণধার ভিনেশ চান্ডিলকে। তাঁকে দশ দিনের ED হেফাজত দেওয়া হয়েছে। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে চন্দ্রিমা বলেন, রাজনৈতিক ময়দানে পরাজয় অবশ্যম্ভবী জেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এজেন্সি দিয়ে বিরোধীদের টার্গেট করছে বিজেপি। বিপক্ষে থাকলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে আর বিজেপিতে যোগ দিলেই ওয়াশিং মেশিনে সব পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ডেরেক এদিন বলেন ২০২১ সালে ৪৭ টি আসনে ৫ পার্সেন্ট মার্জিন এগিয়েছিল। বাকি ৩০ টি আসনে ভোটের ব্যবধান আরও কমেছে। ঠিক সেই হিসাব থেকেই এবার বিজেপি বুঝতে পেরেছে যে পঞ্চাশের বেশি আসন পাবে না। তাই এই ধরনের প্রতিহিংসমুলক রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে। চন্দ্রিমা বলেন, যেভাবে বাংলার মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে, ইলেকশন কমিশনের মতো সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দুরভিসন্ধি চরিতার্থ করতে লেগেছে বিজেপি সেটা ঘৃণ্য। আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষা কাউকে অসম্মান- অপমান করতে শেখায় না।বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে ৫০ টা আসন পেয়ে দেখান।’

এদিন মহিলা সংরক্ষণের বিল প্রসঙ্গও উঠে আসে। ডেরেক বলেন, বাংলার বিধানসভার নির্বাচনের ঠিক আগের সপ্তাহ ১৬-১৭-১৮ এপ্রিল সংসদে অধিবেশন ডাকা হয়েছে। এটা হাস্যকর। তিনি সংরক্ষণ বিলের সংশোধনীর মাধ্যমে মহিলাদের সীমাবদ্ধতাকে নিশ্চিত করতে চাইছে বিজেপি। চন্দ্রিমা বলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে মহিলাদের কথা ভেবেছেন, ৫০ শতাংশের বেশি আসন দিয়েছেন সেটা অন্য কেউ করে দেখাতে পারেনি। তাই এই ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনও কিছু বলা মোদি সরকারের সাজে না। তাঁর কথায়, উত্তরবঙ্গের ৫৪ টা আসনের মধ্যে বিজেপি কটা আসনে মহিলা প্রার্থী দিয়েছে সে হিসেব করে দেখুক পদ্মপার্টি।

–

–

–

–

–

–
–
–

