সংসদে নারী ক্ষমতায়নের জন্য দলের সাংসদদের হুইপ জারি করেছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। সেই মহিলা সংরক্ষণ বিল যে নিছক ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য, তা বিজেপির নেতাদের মহিলাদের প্রতি অসম্মানেই প্রমাণিত। তাঁদের দেখানো পথ মহিলাদের প্রতি অসম্মানের পথ এতটাই প্রশস্ত করেছে, যে এখন সাধারণ বিজেপি কর্মী সমর্থকরা মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে (Chief Minister of West Bengal) ধর্ষণ করার কথা বলতেও ভয় পায় না। একদিকে নারী সম্মানের নামে মহিলাদের অসম্মান, অন্যদিকে নির্বাচনী আচরণবিধিকে (MCC) বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন প্রকল্পের টাকা বাংলার মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে বিজেপির নেতারা। এবার যুব সমাজের হাতে টাকা (Yuva Shakti card) তুলে দেওয়া নিয়ে বিজেপির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে (ECI) প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালো তৃণমূল কংগ্রেস।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও-তে (ভাইরাল ভিডিও-র সত্যতা বিশ্ববাংলা সংবাদ যাচাই করেনি) দেখা গিয়েছে জনৈক ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছেন। সেই ভিডিও তুলে ধরে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja) প্রশ্ন তোলেন, দিনকে দিন তাঁদের অবনতি। প্রতিদিন নতুন নিম্নতায় নামছেন বিজেপি নেতারা। অজানা বিজেপি নেতৃত্ব, তাঁরা এই সাহস পায় কিভাবে? যখন তাঁদের নেতৃত্ব যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরকে দেখেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে বলছে ধর্ষণ করতে হবে। আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছি। বিজেপির দৈনতা আমরা বলছিলাম রাজনৈতিকভাবে। কিন্তু সংস্কৃতির অভাবটা এই জায়গায় যদি পৌঁছায় তাহলে তা বাংলা, সমাজ, মহিলা এমনকি এই ভারতের জন্য ভয়ঙ্কর।

তবে বিজেপি যে শুধুমাত্র সামাজিক অবক্ষয়েই থেমে নেই, তা স্পষ্ট প্রতিদিন তাদের নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করায়। প্রতিদিন সেই পথে গেলেও বিজেপির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ আজও নিতে দেখা যায়নি নির্বাচন কমিশনকে। সেখানেই তৃণমূল নেতা প্রতীক উর রহমান (Pratik-ur Rahaman) প্রশ্ন তোলেন, আমরা জানি অতি ভক্তি চোরের লক্ষ্ণণ। নির্বাচনের সময়ে বিজেপি ছোট ছোট ক্যাম্প করেছে। ফর্ম ফিলাপ করছে যুবশক্তির (Yuva Shakti card) নাম করে। এটা আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অবাক হচ্ছি, যে নির্বাচন কমিশন এটা দেখতে পাচ্ছে না। দিনের পর দিন বিজেপি নির্বাচনের মাঝে যা করছে তা তারা দেখতে পাচ্ছে না।

আদতে বিজেপির এই প্রতিশ্রুতি কতখানি জুমলা, তা তুলে ধরে প্রতীক দাবি করেন, নির্বাচনের সময়ে শুধু ৩ হাজার টাকা দেব। ১২ বছর আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ২ কোটি বেকারের চাকরি দেব। এতদিনে ২৪ কোটি বেকারের চাকরি পাওয়ার কথা। অথচ নরেন্দ্র মোদি জমানায় যেভাবে বেকারত্ব বেড়েছে, ২০-২৯ বয়সীদের ৬৭ শতাংশ স্নাতক আজ বেকার।

আরও পড়ুন : আমি খুব খুশি, আমি মামলা করেছিলাম: সুপ্রিম নির্দেশে বিচারব্যবস্থার জন্য গর্বিত মুখ্যমন্ত্রী

বিজেপি নিজের প্রতিশ্রুতিতে নিজের শাসন ব্যবস্থার উপরই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে, দাবি প্রতীক উরের। তিনি তথ্য পেশ করে প্রশ্ন করেন, এখন পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এসে ৩ হাজার টাকা বলছে। বিহার, অসম, ত্রিপুরায় যেখানে ক্ষমতায় আছে সেখানে ৩ হাজার টাকা দিচ্ছেন না কেন? বরং দু-তিন দিন আগে দেখলাম, উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় বেকার যুবকদের উপর যেভাবে লাঠিচার্জ করেছে।

–

–
–
–
