Thursday, April 16, 2026

ভোটার তালিকায় নাম Delete! সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন

Date:

Share post:

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (Voter List) নাম ছিল বাবা-মায়ের। এবারের তালিকাতেও আছে। কিন্তু নাম ওঠেনি ছেলের। নিরুপায় হয়ে জেলাশাসকের কাছে সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি! ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। বৃহস্পতিবার এই এলাকার বাবুপাড়ার বাসিন্দা সুমিতাভ মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁর বাবা প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী স্বপন মুখোপাধ্যায় (৮০) এবং মা শাশ্বতী মুখোপাধ্যায় (৬৭)। এই দুজনের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। বর্তমানেও তাঁদের নাম নির্বাচন কমিশনের তালিকাতে আছে। ২০০২ সালে সুমিতাভ এপিক কার্ড পান। পরবর্তীতে সবকটি নির্বাচনেই তিনি ভোট দিয়েছিলেন। SIR-এর সময় সমস্ত তথ্য দিয়ে তিনি আবেদন করেন। খসড়া তালিকা বেরোলে তাতেও নাম ছিল তাঁর। কিন্তু গত মাসের ২৮ তারিখ যে তালিকা প্রকাশিত হয় সেখানে তাঁর নাম ডিলিট হয়ে গেছে। অথচ তাঁর বাবা, মা, স্ত্রী মালা মুখার্জির নাম তালিকায় আছে। স্ত্রীর নামের পাশে রিলেশানের জায়গাতেও তাঁর নাম আছে। অথচ মূল তালিকা থেকে তাঁর নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে বিভিন্ন দফতরের ছোটাছুটি করেও কোন সুরাহা না হওয়াতে অবশেষে তারা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেন বলেই দাবি করেন। আরও পড়ুন: 

সুমিতাভ বলেন, “আমাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হলে আমার পুরো পরিবার শেষ হয়ে যাবে। আমি নিজে সারভাইকাল সমস্যায় ভুগছি। গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাই। আমার মা অগ্নিদগ্ধ হওয়াতে তিনি অসুস্থ। বাবাও বয়সজনিত কারনে অসুস্থ। একটি ১৪ বছরের ছোট ছেলে আছে। আমি জানি না আগামীদিনে কি হবে। আমাকে ডিটেনশান ক্যাম্পে পাঠালে গোটা পারিবার সমস্যায় পড়বে। আমি ও আমরা দিশাহীন, আতঙ্কিত তাই স্বপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, “প্রতিবেশী সুপ্রিতী বিশ্বাস, আদপে তিনি বাংলাদেশি, তিনি আমার নাম ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। সুপ্রিতী বিশ্বাসের নামের পাশে রিলেশানের জায়গায় অন্যান্য লিখে আমার নাম দেখানো আছে। নির্বাচন কমিশন SIR-এর নামে যা করছে তা অন্যায়। বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে। আমি একজন বৈধ নাগরিক ও সমস্থ নথি থাকা সত্ত্বেও যদি ভোট দিতে না পারি তবে কি দেশে গণতন্ত্র রক্ষা পাচ্ছে?” প্রশ্ন তোলেন সুমিতাভ। তিনি আরও বলেন, “এর দায় কে নেবে। আধিকারিকেরা বলছেন ভোটের পর নাম উঠে যাবে। আমার প্রশ্ন আগামী ২০ বছর পরে আবার যখন SIR হবে তখন যে আমার সমস্যা হবে না সেই দায়িত্ব কে নেবে। জেলাশাসক বা বিচারপতিরা লিখে দিক কোনও সমস্যা হবে না।” কিন্তু তার এই আবেদনের কোন উত্তর তিনি পাননি বলেই সুমিতাভ দাবি করেছেন। তাঁর মতে SIR-এর নামে টাকার খেলা চলছে। অবৈধদের নাম উঠে যাচ্ছে আর বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে। এটা নাকি এসআইআর? মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সবকাজ ছেড়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। মানুষ কাগজ নিয়ে আধিকারিকদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে অথচ কেউ কোন দিশা দেখাতে পাচ্ছে না। আমরা হতাস, সমস্যার সিমাধান না হলে আমরা বাধ্য হব সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর।”

Related articles

যে ভাষা বোঝে সেই ভাষাতেই বোঝাব! কাকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের?

ভোটমুখী রাজনীতিতে ফের অমিত শাহকে (Amit Shah) এক হাত নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।...

ভাঙড়ে প্রার্থীর ছড়াছড়ি, একটি বুথে দুই ইভিএমের নজিরবিহীন ব্যবস্থা কমিশনের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের নজরকাড়া কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম ভাঙড়। তবে এবার শুধু রাজনৈতিক উত্তাপের কারণে নয়, বরং প্রার্থীর...

ভোটে EVM-VVPAT নিয়ে কড়া নজরদারি নির্বাচন কমিশনের

নির্বাচন কমিশন (Election Commission) প্রথম দফার ভোটের আগে ইভিএম (EVM) ও ভিভিপ্যাটের (VVPAT) চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে।...

রাজধানীর বিমানবন্দরে ধাক্কা দুই বিমানের! চরম অব্যবস্থার নজির

ফের এক চরম অব্যবস্থার নজির রাখল দেশের রাজধানী দিল্লির বিমান বন্দর। অবতরণ করা বিমানে ধাক্কা মারল পার্কিং বে...