রাজ্যের প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের স্পর্শকাতর বুথগুলিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে বনাঞ্চল ঘেঁষা বা ঝোপঝাড়ে ঘেরা কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। যেসব বুথে সীমানা প্রাচীর নেই, সেগুলিকে চিহ্নিত করে এবার অস্থায়ী বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় এমন কিছু ভোটকেন্দ্র রয়েছে যেগুলির ভৌগোলিক অবস্থান যথেষ্ট উদ্বেগজনক। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, বুথের খুব কাছেই জঙ্গল বা ঝোপঝাড় থাকায় দুষ্কৃতীদের পক্ষে গা ঢাকা দেওয়া সহজ হয়। আবার পাঁচিল না থাকার সুযোগে অনভিপ্রেত লোকজন অবাধে বুথ চত্বরে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এই সমস্যা মেটাতেই এবার বাঁশের কেল্লা তৈরির কৌশল নিয়েছে কমিশন।
ঠিক হয়েছে, এই চিহ্নিত বুথগুলির চারপাশ মজবুত বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে। ওই ঘেরা টোপের মধ্যেই মোতায়েন থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এর ফলে বুথের চারদিকে একটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বলয় তৈরি হবে, যার বাইরে থেকে কেউ ভেতরে নজরদারি চালাতে বা অতর্কিতে প্রবেশ করতে পারবে না।
কমিশনের জারি করা সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই অস্থায়ী বেষ্টনীর ভেতর ঢোকার অধিকার থাকবে কেবল সংশ্লিষ্ট বুথের ভোটারদেরই। প্রবেশের আগে প্রত্যেকের বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন কর্তব্যরত জওয়ানরা। পরিচয়পত্র ছাড়া অন্য কাউকেই সীমানার ভেতরে পা রাখতে দেওয়া হবে না। এমনকি বুথের আশপাশে অকারণে জটলা রুখতেও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের পাঠানো রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, পাঁচিলহীন এবং জঙ্গল সংলগ্ন বুথগুলি মূলত ‘সংকটপ্রবণ’ বা ভালনারেবল। অতীতে এই ধরনের এলাকায় অশান্তির খবর মিলেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগাম সতর্কতা হিসেবে এই বাড়তি সুরক্ষাকবচ তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন। এর পাশাপাশি ওইসব এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটে উত্তরবঙ্গের বুথগুলিতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ মেজাজ বজায় রাখাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
আরও পড়ুন- ভোটার তালিকায় নাম Delete! সপরিবারে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন
_
_

_

_

_

