বাংলায় বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনী প্রচার থেকে বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একদিকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের জোট। অন্যদিকে কংগ্রেস-সিপিআইএম ও অন্যান্য দলগুলির বিজেপিকে সহযোগিতা করে দেওয়ার পরও বাংলার মানুষের সমর্থনই আরও বেশি আসনে জেতাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে, দাবি মমতার। আর সেই দাবি তিনি করতে পারছেন বাংলার মানুষের চোখের ভাষা পড়েই, অকপট স্বীকারোক্তি তৃণমূল নেত্রীর।

যেভাবে নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় ভোটে জেতার কৌশল নিয়েছে বিজেপি, তার বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ প্রকাশ, এবার আরও বেশি আসনে জয়ী হব। যে অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, স্বৈরাচার, এসআইআর, গণতন্ত্র, সংবিধান, ইতিহাসকে হত্যা করা হচ্ছে। এমন কি সিবিএসই স্কুলগুলিতে লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। এরা কারা? কিচ্ছু জানে না। ভারতবর্ষের সংস্কৃতি, দেশের সংস্কৃতি জানে না। আমাদের মণীষীদের কী নামে ডাকছে।

এর পাশাপাশি রয়েছে কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফ-এর মতো আরও সাম্প্রদায়িক দল ও নির্দল প্রার্থী। কার্যত তারা বিজেপির হাত শক্ত করার জন্য কাজ করছে। তার জবাবও মানুষ দেবে বলেও মমতার দাবি, আমাদের বিরুদ্ধে যারা লড়ছে তারা বিজেপি-র হাত শক্তিশালী করার জন্য লড়ছে। কেউ কেউ আবার নির্দল হিসেবে কারও কারও থেকে টাকা নিয়ে লড়ছে। আমি এদের কিছু মনেই করি না। শুধু এদের প্রতি এইটুকু করুণা থাকবে, বিজেপি-কে জেতানোর জন্য তোমরা যা করছ, মানুষ কিন্তু ভুলবে না। মানুষ এবার অন্য কোনও দলকে ভোট দেবে না, তৃণমূলকেই দেবে। কারণ এসআইআর-এ (SIR) যখন মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে, তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনও দল পাশে এসে দাঁড়ায়নি।

এমনকি যে ঘোড়া কেনাবেচার খেলা দেশের একাধিক রাজ্যে বিজেপি চালিয়ে এসেছে, তা যে বাংলায় চলবে না, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কেন বিধায়ক কিনবে? কেনাকাটা করবে? যেমন করে বিহার, মহারাষ্ট্রে সরকার ভেঙেছে। আরও দু একটা রাজ্যের সরকার ভেঙেছিল। কেনাবেচার রাজনীতি বাংলায় হয় না। বাংলার মানুষ গদ্দার হতে চায় না। যে একবার গদ্দার হয়ে যায়, সে আর মানুষের ভালবাসা পায় না।

আরও পড়ুন : মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন মা-বোনেদের অসম্মান: বিরোধিতা স্পষ্ট করলেন মমতা

তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি ভোটে জিততে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসা রাজ্যের মানুষ। গোটা রাজ্যে ঘুরে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময়ে যেভাবে মানুষের চোখের ভাষা বুঝেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা-ই তাঁর নির্বাচনে জয়ের চাবিকাঠি, দাবি তৃণমূল নেত্রীর। তিনি এদিন জানান, এবারের ভোটের ভাইবস ২০২১-কে ছাপিয়ে যাবে। আমি যতটুকু মানুষকে চিনতে পেরেছি, বুঝতে পেরেছি, জানতে পেরেছি। মানুষের চোখের ভাষা আমি বুঝি। আমি এলাকা দিয়ে গেলে দেখি কোন লোকটার চোখ হাসছে। আর কোন লোকটা চোখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে। সেটাও আমি লক্ষ্য রাখি।

আর সেই বোধ থেকেই তৃণমূল নেত্রীর দাবি, উত্তরবঙ্গ ওদের এবার ভালো করে বুঝিয়ে দেবে। দক্ষিণ বঙ্গও দেবে, উত্তর বঙ্গও দেবে। দক্ষিণ বঙ্গের উপর তো কম অত্যাচার আসেনি। আজ পর্যন্ত কিছু করেছে দক্ষিণ বঙ্গের জন্য?

–
–
–
