বাংলার ক্ষমতা দখল করতে দিল্লি যে ভাবে মরণপণ লড়াইয়ে নেমেছে, তাকে সরাসরি ‘দাঁত-নখ বের করা আধিপত্যবাদ’ বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ব্রাত্য বসু। বুধবার বিকেলে কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ব্রাত্যর সাফ কথা, এ রাজ্যে পরবর্তী সরকার কারা গড়বেন, তা ঠিক করবে বাংলার মানুষই, দিল্লি থেকে কেউ তা ঠিক করে দিতে পারে না।

স্বাধীনতা-উত্তর পশ্চিমবঙ্গে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সাক্ষী কেউ কখনও থেকেছেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন ব্রাত্য। তাঁর অভিযোগ, এ রাজ্যে দেশের একমাত্র বিরোধী মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যে সর্বনাশা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা জরুরি অবস্থার কালা অধ্যায়কেও হার মানিয়ে দেয়। ব্রাত্যর মতে, বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়া মনুষ্যত্ব অবমাননাকারী এবং মর্মঘাতী। তিনি বলেন, বিজেপি যাকে কালা অধ্যায় বলে দাগিয়ে দেয়, সেই জরুরি অবস্থার সময়েও এমন নির্বাচন বাংলা দেখেনি।
নির্বাচন ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ব্রাত্য জানান, এসআইআর-এর মাধ্যমে প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে নিজেদের দেশের মাটিতে লাইনে দাঁড়িয়ে এই লক্ষ লক্ষ মানুষকে আজ নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই দু’শো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, প্রায় দেড় কোটি ভোটারকে ক্রমাগত ভয় দেখানো হচ্ছে যে তাঁদের নাম বাদ চলে যাবে। অথচ এত কিছুর পরেও একজন অনুপ্রবেশকারী বা বিজেপির ভাষায় ‘ঘুসপেটিয়া’ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি।

সমগ্র বিষয়টিকে ‘ভোটার জেনোসাইড’ বা ভোটারদের মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র বলে ব্যাখ্যা করেছেন ব্রাত্য বসু। তাঁর অভিযোগ, দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এত বড় এক নির্বাচকমণ্ডলীর সঙ্গে এমন আচরণ নজিরবিহীন। ব্রাত্যর দাবি, শুধুমাত্র একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এই ভয়ঙ্কর ও নজিরবিহীন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। বাংলার মানুষ এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ব্যালটেই জবাব দেবেন বলে আত্মবিশ্বাসী রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী।

আরও পড়ুন – বদল নয়, গণতন্ত্রে বদলা চাই: প্রথমদফার প্রচারের আগে স্লোগানে ঝড় তুললেন মমতা

_

_

_
_
_
_
