বাংলায় প্রথম দফা নির্বাচনের আগের দিন ইডি বনাম আইপ্যাক (ED vs IPAC) মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) টানটান উত্তেজনা। তদন্তের নামে বেআইনি হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনুসিংভি (Avishek Manusinghvi)। ইডির হাতে তদন্ত করার ক্ষমতা আছে মানেই তারা মৌলিক অধিকার দাবি করতে পারে কি, শীর্ষ আদালতে প্রশ্ন তোলেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibbal)।

ঘটনা সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬- এ। কয়লা পাচার মামলার তদন্তের নামে তৃণমূলের ভোট পরিচালন সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। দু জায়গাতেই পৌঁছে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযোগ করে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশিতে বাধা দিয়ে ল্যাপটপ ও ফোন সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে ফেলেছেন। এর বিরুদ্ধে ইডির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয় সুপ্রিম আদালতে। বুধবার শুনানিতে উঠে আসে রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও সংবিধান প্রসঙ্গও। রাজ্যের প্রাক্তন ডিজির হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী মনুসিংভি বলেন “ইডি একটি রাষ্ট্রীয় শক্তিশালী সংস্থা। তাই বলে তারা বলতে পারে না যে তাদের রাষ্ট্রের সুরক্ষা চাই। ইডি অফিসারের নিজস্ব কোনও আলাদা অস্তিত্ব বা পরিচয় নেই, তিনি শুধু আইনের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী একজন ব্যক্তি মাত্র।তদন্ত করার ক্ষমতা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হাতে থাকলেও, তা তাদের ‘মৌলিক অধিকার’ হতে পারে না। ফলে অনুচ্ছেদ ১৪, ২১ বা ২২ লঙ্ঘন হয়েছে এমন প্রশ্নই ওঠে না।
এদিন সুপ্রিম শুনানিতে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী (Meneka Guruswami) ১৯৪৮ সালের সংবিধান সভার বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাজ্যের যুক্তির বিরোধিতা করে কেন্দ্রে সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta) বলেন, মূল ঘটনা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। অতীতের প্রসঙ্গ টেনে এনে মামলা খারিজ করার যুক্তি ধোপে টিকবে না বলেই মন্তব্য করেন তিনি। সওয়াল পাল্টা সওয়ালে সুপ্রিম এজলাসের আইনি লড়াই পৌঁছে যায় চরম পর্যায়ে।মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ফের শুনানি শুরু হয়েছে। এদিন শেষ পর্যন্ত আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

–

–

–

–

–
–
–
