রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে বেছে বেছে গ্রেফতারির নির্দেশ দিচ্ছেন কমিশনের বসানো পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। বেআইনি এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC Gyanesh Kumar) থেকে রাজ্যের সিইও-র (CEO Manoj Agarwal) কাছে অভিযোগ জানিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এখানেই থেমে থাকবে না তৃণমূল। যে পর্যবেক্ষকরা (observer) ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন, তাঁদের সময়-রাজ্য নির্বিশেষে আদালতের দোরগোড়ায় টেনে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হল।

কীভাবে ক্ষমতার বাইরে গিয়ে নামের তালিকা করে একটি মাত্র রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারির নির্দেশ দিচ্ছেন কমিশনের একাধিক পর্যবেক্ষক, তা প্রমাণসহ তুলে ধরা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছে। প্রশ্নের মুখে পড়েছে কমিশন (Election Commission)। তবে তৃণমূল কংগ্রেস যে এই পদক্ষেপ নিয়েই থেমে থাকবে না, বুধবার স্পষ্ট করে দিলেন সাংসদ রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। বুধবার সিইও দফতরে (CEO office) নিয়ম মাফিক অভিযোগ দায়ের করতে যান রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, সাংসদ রাজীব কুমার ও প্রাক্তন সাংসদ সুভাশিষ চক্রবর্তী।
পর্যবেক্ষকদের শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশ ৫০০-র বেশি তৃণমূল নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ স্ট্যাটুট অনুযায়ী পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব শুধু পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট জমা দেওয়া। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ ডিইও বা সিইও রয়েছেন গ্রেফতারি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য। সিইও দফতরে অভিযোগ দায়ের করে জানান প্রাক্তন ডিজিপি ও সাংসদ রাজীব কুমার (Rajeev Kumar)। সেখানেই আইনের পথে এই পর্যবেক্ষকদের (observer) বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বার্তা দেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন : সরকারি আবাস ছেড়ে পুলিশ অবসার্ভার সাগরিকা হোটেলে কেন? ভিডিও দেখিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

পদক্ষেপের বিষয়ে সাংসদ রাজীব কুমার দাবি করেন, পর্যবেক্ষকদের এই পদক্ষেপ ফৌজদারি আইন (criminal law) ও বর্তমান নির্বাচনী আইনের বিরোধী। এই পর্যবেক্ষকদের পদ, রাজ্য বা পৃষ্ঠপোষকতা নির্বিশেষে প্রত্যেক আধিকারিক যাঁরা আইন ভেঙে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁদের নামে অভিযোগ দায়ের করে, চার্জশিট (chargesheet) পেশ করে আদালতে নিয়ে আসা হবে। রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে তাঁরা পার পাবেন না। কোনও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাতেও পার পাবেন না।

–

–

–
–
–
