দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন রেকর্ড গড়ল কোচবিহার। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় এই জেলায় ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৯৬.০৪ শতাংশে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভোটদানের এই পরিসংখ্যান কেবল রাজ্যের মধ্যে নয়, সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে কোনও বিধানসভা নির্বাচনে একটি জেলায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কার্যত দেখা যায়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিই অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখেছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে শীতলকুচি, যেখানে ভোট পড়েছে ৯৭.৫৩ শতাংশ। এছাড়া মেখলিগঞ্জে ৯৬.৮৭ শতাংশ, সিতাইয়ে ৯৬.৫৪ শতাংশ এবং দিনহাটায় ৯৫.৭ শতাংশ মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। পিছিয়ে নেই মাথাভাঙা (৯৫.৯৬ শতাংশ), নাটাবাড়ি (৯৫.৮২ শতাংশ) এবং তুফানগঞ্জও (৯৫.৩৯ শতাংশ)। কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রে যথাক্রমে ৯৫.৪৫ এবং ৯৪.৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। শতাংশের নিরিখে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা জেলার মধ্যে সামান্য পিছিয়ে থাকলেও, তা রাজ্যের গড় হারের তুলনায় যথেষ্ট বেশি।
কোচবিহারের জেলাশাসক জিতিন যাদব এই বিপুল ভোটদান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এবার জেলায় রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়ার নেপথ্যে সাধারণ মানুষের বিশেষ আগ্রহ কাজ করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভোট দিতে না আসা মানুষরাও এবার বুথমুখী হয়েছেন। বিশেষ করে বহু পরিযায়ী শ্রমিক এবং তরুণ ভোটার এবার গ্রামে ফিরে গণতান্ত্রিক উৎসবে শামিল হয়েছেন বলে মনে করছে প্রশাসন। সামগ্রিকভাবে নির্বিঘ্ন ভোটদান এবং মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি কোচবিহারকে দেশের ভোটচিত্রের মানচিত্রে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

আরও পড়ুন – ‘৪ মে বিজেপির বিসর্জন, বাংলায় জিতেই গিয়েছে তৃণমূল’, হুঙ্কার মমতার

_

_

_

_
_
_
_
