বাংলার নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার অজুহাতে তুঘলকি শাসন জারি করার পথে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা আগে থেকে বাইক চলায় জারি হয় নিষেধাজ্ঞা (motorbike restriction)। এবার কমিশনের সেই নিষেধাজ্ঞার উপর নির্দেশিকা চাপালো কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের, প্রশ্ন কোন আইনের ধারায় নির্বাচন কমিশন (ECI) এমন বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে?

কার্যত ধোপে টিকলো না নির্বাচন কমিশনের কোনও যুক্তিই। নির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা আগে থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানোতেই নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্বাচন কমিশন। আবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যে ছাড় দেওয়া হয় সেখানেও পিলিয়ন রাইডিংয়ে (pillion riding) নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। শুধুমাত্র চাকুরিজীবী ও জরুরী পরিস্থিতিতেই ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের হয় সেখানে বৃহস্পতিবারই ভর্ৎসিত হয় নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, কোন আইনে নির্বাচন কমিশন এমন নির্দেশিকা জারি করতে পারে? কমিশনের নিরাপত্তার যুক্তি কার্যত উড়িয়ে দেন বিচারপতি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞায় (motorbike restriction) যারা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ তাঁরা কিভাবে যাতায়াত করবেন? যারা মজদুর, যারা কোচিং সেন্টার চালান তাঁদের কাছেও কোনও পরিচয়পত্র থাকে না। পরিচয়পত্র না দেখালে কমিশন তাঁদের ছাড় দেবে না। তাহলে তাঁরা কিভাবে যাতায়াত করবেন, প্রশ্ন তোলে কলকাতা হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন : ৭২ ঘণ্টা বাইক বন্ধ কেন? ক্ষমতার অপব্যবহার! কমিশনকে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

রাজ্যের তরফে আইনজীবী সওয়াল করেন কমিশনের এই নিষেধাজ্ঞা বেআইনি। দুপক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালতের নির্দেশ ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের ১২ ঘন্টা আগে বাইক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কমিশন। বাইক মিছিলে নিষেধাজ্ঞা ৪৮ ঘণ্টা থাকলেও জরুরি পরিষেবা পারিবারিক অনুষ্ঠানের কাজে বাইক ব্যবহার করা যাবে। অ্যাপ ক্যাপকে (app cab) ছাড় দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা থেকে। নির্বাচনের ১২ ঘন্টা আগে পিলিয়ান রাইডিং করা যাবে না। আবার জরুরী পরিস্থিতিতে তাতেও ছাড় দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট দিতে যাওয়ার কাজে বাইক ব্যবহার করা যাবে। সে ক্ষেত্রে পিলিয়ান রাইডিংও চলতে পারে, নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের।

–

–

–
–
–
