ভোটের আগে বাংলায় এসে হুমকি সংস্কৃতির চালু করছেন যোগীরাজ্যের পুলিশ। তাঁর ভিডিও পোস্ট করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির (BJP) মুখপাত্র অজয় অলকের (Ajay Alok) বিরুদ্ধে। শাসকদলের প্রশ্ন, একজন মুখ্যমন্ত্রীকে যদি এভাবে আক্রমণ করা হয় তাহলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায়?

মঙ্গলবার তৃণমূলের (TMC) তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে বিজেপি নেতা অজয় অলকের মন্তব্যের স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, বিজেপি (BJP) নেতা অমিত মালব্য উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আধিকারিক অজয় পাল শর্মাকে (Ajay Pal Sharma) নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্ট শেয়ার করে অজয় লেখেন, “লাতো কে ভূত বাতোঁ সে নেহি মানতে। রেজ়াল্ট আনে তক কহিঁ নিপট না যায়ে। ডরায়েগা তো ঠোকায়েগা।” তৃণমূলের অভিযোগ, এই মন্তব্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ভয় দেখানোর চেষ্টা। কারণ ওই পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগও করা হয়েছিল। শাসকদলের দাবি, বিজেপি বাংলায় উত্তরপ্রদেশ-বিহারের ‘ঠোক দো’ রাজনীতি আনতে চাইছে, যেখানে বিরোধীদের চুপ করাতে ভয় আর হুমকিই প্রধান অস্ত্র।
আরও খবর: মহিলা-শিশুদের ভয় দেখিয়ে কী ভোট চলছে, জ্ঞানেশ কুমারকে প্রশ্ন তৃণমূলের
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। তৃণমূলের অভিযোগ, সব কিছু দেখেও কমিশন নির্লিপ্ত দর্শকের মতো বসে রয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর মিম ছড়ানো থেকে শুরু করে এই প্রকাশ্য হুমকি। সব ক্ষেত্রেই কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত দুর্বল। তৃণমূল মুখপাত্র ঋজু দত্ত বলেন, বিজেপি রাজনৈতিক লড়াইয়ে পেরে না উঠে এখন ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুমকির পথে হাঁটছে। একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকরা যখন মাঠে নিরপেক্ষতার বদলে বিতর্কে জড়াচ্ছেন, তখন ভোট কতটা স্বচ্ছ হবে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। পরে ওই বিজেপি নেতা অজয় পাল্টা দাবি করেন, তাঁর মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তবে রাজ্য রাজনীতিতে প্রশ্ন একটাই—এ কি শুধু ভাষার ভুল, না কি বাংলার ভোটে ভয় দেখিয়ে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা বিজেপির।

–

–

–

–

–
–
–
