বিজেপির ঐতিহাসিক বঙ্গ জয়ের পর এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কে? বঙ্গ বিজেপির অন্দরে জল্পনা ক্রমশই জোরালো হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কি তবে সবচেয়ে এগিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary)? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) নিজে এখনও শপথ গ্রহণের দিন নিশ্চিত করেননি। তার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিশ্চিত করতে তৎপর জাতীয় নেতৃত্ব। তবে এরই মধ্যে আরএসএস (RSS) থেকে কেউ মুখ্যমন্ত্রিত্ব (Chief Minister) পেয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বিজেপির একাংশের মতে, শুভেন্দুর নামকে সামনে নিয়ে আসার পিছনে রয়েছে একাধিক শক্তিশালী যুক্তি।প্রথমত, একবার নয়—পরপর দু’বার তিনি নির্বাচনী ময়দানে পরাস্ত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, যে নেতা দু’দুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রভাবশালী মুখকে হারাতে পারেন, মুখ্যমন্ত্রীর আসনে তাঁর দাবিই স্বাভাবিকভাবে সবচেয়ে জোরালো।
দ্বিতীয়ত, নরেন্দ্র মোদির পর শুভেন্দু অধিকারীই বিজেপির একমাত্র নেতা, যিনি এবারের নির্বাচনে একযোগে দু’টি আসন থেকে লড়ে দু’টিতেই জয়ী হয়েছেন। ফলে সংগঠনের ভিতরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থার প্রশ্নে শুভেন্দুর অবস্থান যে অত্যন্ত মজবুত, তা নিয়ে দলের ভেতরে বিশেষ দ্বিমত নেই। বিশেষ করে অমিত শাহর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সমীকরণকে বিজেপির অনেকেই বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন। সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছিল মনোনয়ন জমার দিন, যখন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে শক্তির প্রদর্শন করেছিলেন।

দলীয় সূত্রের খবর, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ৯ মে, অর্থাৎ পঁচিশে বৈশাখে করার ভাবনা চলছে। কবিগুরুর জন্মদিনের আবহে সরকার গঠনের পরিকল্পনা বিজেপির। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহ—দু’জনেরই উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন : বিহার ভোটের পরে ঘোষণা করেছিলাম গঙ্গাসাগরে পৌঁছাবো: বাংলা জয়ে মনে করালেন মোদি

তবে বিজেপির রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তের চমক নতুন কিছু নয়। অতীতেও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে দল বারবার অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে আরএসএস সদস্যকে। তাই শুভেন্দু অধিকারীর নাম সবচেয়ে জোরে শোনা গেলেও, শেষ মুহূর্তে একেবারে আনকোরা কোনও মুখকে সামনে আনা হবে না—এমন নিশ্চয়তা এখনও কেউ দিচ্ছেন না।

–
–
–
