কোথাও পার্টি অফিস দখল, কোথাও মূর্তি ভাঙা থেকে বিরোধী দলের কর্মীদের রাস্তায় ফেলে পেটানো। বিজেপির শীর্ষ নেতারা বারবার যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাঁরা হিংসা (post poll violence) বন্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছেন। তা যে তাঁদের উন্নয়নের ফাঁকা প্রতিশ্রুতির মতোই ফাঁকা আওয়াজে পরিণত হচ্ছে, ফলাফল ঘোষণার (election result) ৪৮ ঘণ্টা পরে তা আবার প্রমাণিত।

রক্তাক্ত বাংলার মাটিতে ভোট পরবর্তী হিংসায় এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। নির্বাচন কমিশনের তরফে এই ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া পদক্ষেপের নিদান দেওয়া হয়েছে। কোথাও হিংসা দেখলেই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসনকে। বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকের দফতর থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই নির্দেশ পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দেশ-আশ্বাসই সার, পুলিশ-প্রশাসনকে কাঠের পুতুল করে বেলাগাম সন্ত্রাস চালাচ্ছে বিজেপির গুন্ডাবাহিনী।
মঙ্গলবারই পূর্ব বর্ধমানের একটি পার্টি অফিসের দোতলা থেকে এক তৃণমূল কর্মীকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে দেখা যায় বিজেপির গুণ্ডাদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি ভাইরাল হয়। হামলা থেকে রেহাই পায়নি সিপিআইএম-ও (CPIM)। হুগলিতে আরামবাগের প্রবীণ সিপিআইএম কর্মী কাজল ঘোষালকে মারধর (beat up) করা হয়। তাঁকে আরামবাগ পি সি সেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আবার খাস কলকাতা শহরের এক্সাইড মোড়ের কাছে তৃণমূল কর্মী, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP) কর্মীদের খুঁজে খুঁজে মারধর (beat up) করে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের নেতারা। এজেসি বোস কলেজে ঢুকে কার্যত তাণ্ডব চালায় তারা। হাওড়ার উলুবেড়িয়া এলাকায় দুষ্কৃতী তাণ্ডব চললেও কেন্দ্রীয় বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে দেখে বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন : ত্রিপুরা থেকে বাংলা-ক্ষমতায় এসেই লেনিনের মূর্তিতে হামলা বিজেপির! প্রতিহত করা হবে: CPIM

অন্যদিকে, তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তপ্ত দুর্গাপুর। দুর্গাপুরের ২৫ ও ২৬ নং ওয়ার্ডের বিধাননগর ও ফুলঝোড় এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে রাতের অন্ধকারে ভাঙচুর চালানো হয়। পাশাপাশি একটি পার্টি অফিসে গেরুয়া রং করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলের।

–

–
–
–
