টানা দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে শেষ পর্যন্ত চরম সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল শিবিরের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি। বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দলের একাধিক মুখপাত্র বিভিন্ন মাধ্যমে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল শাসকদলের অন্দরে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কড়া অবস্থান নিয়ে দলের পাঁচজন মুখপাত্র— ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষকে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। তবে সেই শোকজের উত্তরের ভিত্তিতে শনিবারই বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দল।

শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পাঁচজনের মধ্যে ঋজু দত্ত, কোহিনুর মজুমদার এবং কার্তিক ঘোষকে আগামী ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মূলত দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দেওয়া এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগেই এই কঠোর দণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁদের। সূত্রের খবর, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই নেতাদের যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল, সেই ব্যাখ্যায় শীর্ষ নেতৃত্ব মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। বরং তাঁদের উত্তরের সুর এবং ভঙ্গি দেখে কড়া ব্যবস্থার পথে হাঁটা ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না দলের কাছে।

যদিও এই তালিকায় কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী এবং পাপিয়া ঘোষের নাম বর্তমানে সাসপেনশনের তালিকায় নেই, তবে তাঁদের বিষয়েও দল পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, তাঁদের ভাগ্যও আপাতত অনিশ্চিত এবং নজরদারিতে রাখা হয়েছে তাঁদের গতিবিধি। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দলের অভ্যন্তরে সংহতি বজায় রাখতে তৃণমূলের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দলবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে এই কড়া বার্তা দিয়ে নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিল যে, শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো রকম আপস করা হবে না।

আরও পড়ুন – অবশেষে ম্যাজিক নম্বর ছোঁয়া: তামিলনাড়ুতে সরকার গড়ার পথে বিজয়

_

_

_

_
_
_
_

