নবান্নে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই মেজাজ স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, গত দেড় দশকে প্রশাসনিক স্তরে যে সব অনিয়ম হয়েছে, তার চুলচেরা বিচার হবেই। বিশেষ করে ওবিসি এবং তফসিলি জাতি-উপজাতির শংসাপত্র প্রদানে দুর্নীতির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
নবান্ন সূত্রে খবর, আমলাদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, ভোটার তালিকায় সংশোধনীর সময় যাঁরা বেআইনিভাবে জাতি শংসাপত্র বিলি করেছেন, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ওবিসি ও তফসিলি শংসাপত্র নিয়ে জালিয়াতির পর্যাপ্ত নথি তাঁর হাতে রয়েছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উপযুক্ত সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাই কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আধিকারিকদের বার্তা দেন, এই প্রক্রিয়ায় জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।

দুর্নীতির তালিকায় আবাস প্রকল্প এবং কোভিড পর্বের খরচকেও রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত হয়েছেন এবং বহু অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে। পঞ্চায়েত দফতরকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি, অতিমারি চলাকালীন চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরিতে যাঁরা দুর্নীতির শরিক ছিলেন বা সব জেনেও চুপ ছিলেন, তাঁরাও নজরে রয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন।

এদিন আমলাদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা ছিল আরও স্পষ্ট। তিনি বলেন, “ভয় পাবেন না, কিন্তু সত্য গোপন করবেন না। চাটুকারিতা ছেড়ে কাজের কাজ করুন।” একইসঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আবেদনগুলি স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাইয়ের নির্দেশ দেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম বৈঠক থেকেই নতুন সরকার বুঝিয়ে দিল, গত জমানার ‘ফাইল’ খুলে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই এখন তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য। নবান্নের অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন – IPL: মাঠে মেজাজ হারালেন আরসিবি কোচ, কড়া পদক্ষেপ বিসিসিআইয়ের

_

_

_
_
_
_
