মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। আর সেখানেই নাগরিক সুরক্ষায় জোর দিয়েছেন তিনি। সোমবার, নবান্নে (Nabanna) এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে (Administrative Meeting) এই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, রাজ্যের ভোট বা পরবর্তী কোনরকম হিংসার ঘটনায় রাজ্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নেবে। একই সঙ্গে সরকারি আমলাদের নির্ভয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু।
এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে ছিলেন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ বিভিন্ন দফতরের সচিব এবং প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাকে খুশি করতে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লিখতে হবে না। অনুপ্রেরণা বন্ধ করে কাজের কাজ হোক।”

নবান্ন সূত্রে খবর, প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই বৈঠকে প্রশাসনের কাজের ধরন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এত দিন সরকার ছিল দলের জন্য। এ বার সরকার হবে মানুষের জন্য।” একই সঙ্গে আমলাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে দেন, শুধুমাত্র ‘হ্যাঁ’-তে ‘হ্যাঁ’ মেলানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে রাজ্যের স্বার্থে স্পষ্ট মতামত দিতে হবে।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শুভেন্দু বৈঠকে বলেন, সরকারি অনুষ্ঠানে আধিকারিকদের প্রকাশ্যে অপমান করা বা নাম ধরে সম্বোধন করার সংস্কৃতিতে তিনি বিশ্বাসী নন। আমলাদের প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েই সরকার চলবে। তবে দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করা হবে। কেউ ভুল করলে তাঁর কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানান মুখ্যমন্ত্রী।

গত পনেরো বছরে প্রশাসনের একাংশ অনেক ভুল করেছে বলেও অভিযোগ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর। তবে, পাশাপাশি তিনি এও বলেন, যে কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির কারণে আধিকারিকদের হাতে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। তবে অন্যায় দেখলে ‘না’ বলার সাহস দেখানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু।

বৈঠকে আমলাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, কোনও পরামর্শ বা সমস্যা থাকলে সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে হবে। কোনও রকম ইতস্তত না করে নির্ভয়ে মতামত জানাতেও উৎসাহ দেন তিনি।

সরকারি খরচ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশ, অযথা অর্থ অপচয় করা যাবে না। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে খরচ করতে হবে, কিন্তু তার যথাযথ হিসাবও রাখতে হবে।

কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এত দিন যে সব কেন্দ্রীয় প্রকল্প বন্ধ ছিল, সেগুলি দ্রুত চালু করতে হবে। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ দ্রুত আনার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে বিজেপির সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি একে একে বাস্তবায়নের উপরও জোর দেন শুভেন্দু। নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ সমন্বয় গোষ্ঠী তৈরির কথাও বলেছেন, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ে।
বৈঠকের শেষে আমলাদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা, “অযথা ভয় পাবেন না। যাঁরা কাজ করবেন, আমি তাঁদের পাশেই থাকব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই আমলাতন্ত্রকে নতুন বার্তা দিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরে বৈঠকের ছবি নিজের স্যোশাল মিডিয়া পেজে পোস্ট করে শুভেন্দু লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
রাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি সুনিশ্চিত করাই প্রাথমিকভাবে সরকারের অগ্রাধিকার।“
