মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ হিংসা (Samserganj Violence Case) মামলায় বড়সড় রায় দিল আদালত। জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা ও নৃশংস অত্যাচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ১২ জন অভিযুক্তকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৬০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫ জন হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস খুনের মামলাতেও অন্যতম প্রধান দোষী।
তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে খবর, গত বছর ১২ এপ্রিল সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সামশেরগঞ্জ, সুতি ও ধুলিয়ান সংলগ্ন এলাকা। সেই সময় উন্মত্ত জনতা বলরাম পাল নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার বাড়িতে হামলা চালায়। পুলিশি চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরো পরিবারকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। বাড়িতে আগুন লাগানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ওপর নৃশংস শারীরিক অত্যাচার করা হয়। ঘটনার পরে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ খুনের চেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের ধারায় পৃথক একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। সেই দীর্ঘ শুনানির পর তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত বুধবার ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করল। আরও পড়ুন: নিট কেলেঙ্কারিতে চাঞ্চল্যকর মোড়, ৩০ লক্ষে বিক্রি প্রশ্নপত্র

এই হিংসার জেরেই সামশেরগঞ্জে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে। সেই জোড়া খুনের ঘটনায় গত ডিসেম্বর মাসেই ১৩ জন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল জঙ্গিপুর আদালত। যদিও আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, সেই খুনের নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক যোগ ছিল না, বরং তা ছিল ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল। তৎকালীন সময়ে এই হিংসার ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র তর্জা শুরু হয়েছিল। তবে আদালতের এই কঠোর রায়ে খুশি নিগৃহীত পরিবারের সদস্যরা।

–

–

–

–

–
–
–
