দীর্ঘ বছর পরে কালো কোট পরে এজলাসে দাঁড়িয়ে সওয়াল করলেন তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর সেই শুনানির পরেই কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার, ভোট পরবর্তী হিংসায় মমতার সওয়াল করা মামলায় একাধিক নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতি সজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। ভোট পরবর্তী হিংসায় কেউ বাড়ি বা দোকান থেকে উচ্ছেদ হয়ে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ প্রধান বিচারপতির। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা তলব করেছে বেঞ্চের।
আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Shirshanya Banerjee) ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের (Sujay Paul) এজলাসে। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন সকালে আচমকাই শামলা পরে হাই কোর্টে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রথমেই প্রধান বিচারপতির কাছে অনুমতি চেয়ে বলেন, “আমি ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী। সেই হিসাবেই আমি সওয়াল করতে চাই।” এরপরেই একাধিক অভিযোগ তুলে এজলাসে সওয়াল করেন তিনি।

মমতার কথায়, “এটা বুলডোজার রাজ্য নয়। বাংলার মানুষকে বাঁচান। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়।” তিনি অভিযোগ করেন, “৯২ বছরের বৃদ্ধ, ১৮ বছরের দম্পতিকেও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তফশিলি জাতি, সংখ্যালঘুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” পাশাপাশি তাঁকেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে থানা পর্যন্ত যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মমতা। মামলায় তৃণমূলের তরফে সওয়াল করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Benrjee), শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও।

এর পরেই ভোট পরবর্তী অশান্তি রুখতে এবং ঘরছাড়াদের নিরাপদে ফেরাতে এবার কড়া নির্দেশ দিল হাই কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে,
যাঁদের বাড়ি বা দোকান ভাঙচুর হয়েছে কিংবা যাঁরা ঘরছাড়া হয়েছেন, তাঁদের নিরাপত্তা দিয়ে দ্রুত ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে পুলিশকেই।
আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে যাবতীয় অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
এই সময়ের মধ্যেই মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে।

পরে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সওয়াল করেছেন। হাইকোর্টও তাঁর সঙ্গে একমত। যেভাবে তৃণমূলকর্মীদের বের করে দেওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, লুঠ করা হচ্ছে, সেগুলো কড়া হাতে পুলিশকে মোকাবিলা করতে হবে।” কুণালের কথায়, আদালতে সওয়াল করে তৃণমূল কর্মী ও সাধারণ মানুষের হয়ে সামনে থেকে লড়াই করার বার্তা দিয়েছেন দলনেত্রী।

–

–

–
–
–
