আরাবল্লী পাহাড়ে খনন নিয়ে কড়া নির্দেশ দিল দেশের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আরাবল্লী পাহাড়ে (Aravalli Hill) এক ইঞ্চি জমিতেও খনন কার্য চালানো যাবে না যতক্ষণ না বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট বিশ্লেষণ করা হয়। শনিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এমনই নির্দেশ দিয়েছে।
মাস পাঁচেক আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠন করা হয় একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি। এদিন শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, “আদালত আরাবল্লীর (Aravalli Hill) নতুন সংজ্ঞা সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এক ইঞ্চি জমিতেও খনন চলবে না।” একইসঙ্গে বিচারপতি সূর্য কান্তর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “সমস্ত সমস্যার সূত্রপাত হয়েছে শক্তিশালী খনি লবির কারণে। আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আরাবল্লির পরিবেশকে রক্ষা করা।” সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি।

২০২৫ সালের শুরুর দিকে আরাবল্লী পাহাড়শ্রেণির কোন অংশটি সংরক্ষিত এলাকার আওতায় পড়বে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক একটি সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছিল। কেন্দ্রের প্রস্তাব ছিল- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নয়, বরং আশপাশের সমতল এলাকার চেয়ে ১০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার ভূখণ্ডই কেবলমাত্র ‘অরাবল্লী পাহাড়’ বলে গণ্য হবে। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ কমিটি কেন্দ্রের এই ফর্মুলার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে। তা সত্ত্বেও গত বছররে ২০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বিআর গভাইয়ের বেঞ্চ কেন্দ্রের ওই সংজ্ঞাতেই সিলমোহর দিয়েছিল। আর এই রায়ের পরেই উদ্বিগ্ন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ছিল, কেন্দ্রের সংজ্ঞা মানলে আরাবল্লীর প্রায় ৯০ শতাংশ ভূখণ্ডই পরিবেশ সংরক্ষণ বিধির আওতা থেকে বাইরে চলে যাবে। ১২ হাজারেরও বেশি পাহাড়ের মধ্যে মাত্র হাজারখানেক পাহাড় আদালতের সেই শর্ত পূরণ করতে পারত। ফলে রাজস্থান, গুজরাত, হরিয়ানা এবং দিল্লি জুড়ে বিস্তৃত আরাবল্লীর একটা বিশাল অংশে নির্বিবাদে খনি খনন, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং পর্যটনের নামে দেদার বাণিজ্যিক নির্মাণ শুরু হয়ে যেত।

–

–

–

–
–
–
