নির্বাচনের পরে প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসার শিকার তৃণমূলের কর্মী থেকে তাঁদের পরিবার। বাদ পড়েনি নির্বাচিত সদস্যরাও। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের প্রতিনিধিদল (TMC delegation) সেই আক্রান্ত কর্মী, সমর্থকদের কথা শুনলেন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ঘুরল তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম (fact finding team)। একদিকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Mamata Banerjee) কাছে তাঁরা এই রিপোর্ট তুলে ধরবেন। অন্যদিকে, রাজ্য প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার সামনেও তুলে ধরা হবে বলে জানান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার কুলপিতে আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দলের সদস্যরা। সদস্যদের মধ্যে ছিলেন তন্ময় ঘোষ, সাজদা আহমেদ, সুস্মিতা দেব ও প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের সময় থেকে হুমকি ও শাসানির ছবি তুলে ধরেন স্থানীয় কর্মীরা। ভোট গণনার (election counting) দিন প্রশাসনের উপস্থিতিতে কর্মীদের মারধর করে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনার উল্লেখ করেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা। সেই কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সাংসদ সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev) অভিযোগ করেন, পুলিশ এলাকাটি অশান্ত করার পরিবেশ বিজেপির কর্মীদের জন্য তৈরি করে দিয়েছিল। যখন তৃণমূল কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে, তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) তাদের আটকায়।

অন্যদিকে হুগলির একাধিক এলাকায় যান ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের সদস্য বীরবাহা হাঁসদা, প্রতিমা মণ্ডল, সৈয়দ তানভির নাসরিন, সামিরুল ইসলাম, শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, সুমন ভট্টাচার্য। গোঘাটের (Goghat) নাকুন্ডা পঞ্চায়েতের নিহত দলীয় কর্মী সহদেব বাগের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন নেতৃত্ব। নিহত কর্মীর স্ত্রীর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে আরও যে কর্মীদের বিজেপির হিংসার (post poll violence) মুখে পড়তে হয়, সেই কর্মীদের বাড়ি গিয়ে কথা বলে তৃণমূল নেতৃত্ব।

তৃণমূলের তরফে আর একটি প্রতিনিধিদল পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় (Moyna) আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। সেই দলে ছিলেন দোলা সেন, নাদিমুল হক ও সুশোভন রায়। একদিকে আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। সেই সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূলের বিভিন্ন পদাধিকারীদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। তমলুকে (Tamluk) ভাঙচুর হওয়া দলীয় কার্যালয় ঘুরে দেখেন তাঁরা। কীভাবে পার্টি অফিসে হামলা চালিয়ে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তাও শোনেন সদস্যরা। সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen) তুলে ধরেন, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরে শুধুমাত্র শারীরিকভাবে নয়, তৃণমূল কর্মী থেকে নির্বাচিত সদস্যদের হুমকি দিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যে পঞ্চায়েতে সব সদস্যই তৃণমূলের, সেখানেও হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে পঞ্চায়েত আমরা দখল করে নিলাম।

আরও পড়ুন : ভোট পরবর্তী হিংসার তথ্য অনুসন্ধানে আজই জেলায় জেলায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে, যার শুনানিতে সওয়াল করেছেন খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম যে সব তথ্য এলাকায় ঘুরে সংগ্রহ করলেন, এবার সেই সব তথ্য তুলে ধরা হবে আদালতে। সেই সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের কাছেও হিংসার সব তথ্য তুলে ধরা হবে বলে জানান সাংসদ দোলা সেন।

–

–
–
–
