তীব্র দহনজ্বালায় পুড়ছে (kolkata temperature ) কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মিলিয়ে বুধবার বিকেলে কলকাতায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও, তাতে স্বস্তির চেয়ে অস্বস্তি বেড়েছে। দুপুরের দিকে শহরের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও, মানুষের শরীরে তা অনুভূত হচ্ছিল রেকর্ড ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হিসেবে! অর্থাৎ, অনুভূত তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৭ ডিগ্রি বেশি।
কিন্তু কেন আবহাওয়া দফতরের রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবের এই আকাশ-পাতাল ফারাক? বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে মূলত তিনটি কারণ দেখিয়েছেন:
অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প (আর্দ্রতা): সাধারণত গরম লাগলে শরীরকে ঠান্ডা করতে ঘাম বের হয়। কিন্তু বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ঘাম বাষ্পীভূত হতে পারছে না। ফলে শরীর ঠান্ডা হওয়ার বদলে গরমের অনুভূতি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। আরও পড়ুন: খুন না, আত্মহত্যাই! ফের আদালতের দ্বারস্থ ত্বিষার পরিবার

থমথমে বাতাস: বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকলে ঘাম দ্রুত শুকায় এবং গরম কম লাগে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের বাতাস বর্তমানে প্রায় স্থির থাকায় ভ্যাপসা গরম তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সরাসরি সূর্যালোক ও বদ্ধ পরিবেশ: সরাসরি গায়ে রোদ লাগলে ‘রিয়েল ফিল’ বাড়ে। তবে তীব্র আর্দ্রতার কারণে বদ্ধ ঘরের চেয়ে খোলা হাওয়ায় চড়া রোদেও অনেক সময় বেশি স্বস্তি মেলে, কারণ সেখানে ঘাম শুকানোর সুযোগ থাকে। সহজ কথায়, আবহাওয়া দফতরের থার্মোমিটার মাপে শুধু বাতাসের উষ্ণতা। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহের অভাব যোগ হয়ে মানুষের শরীরে যে প্রকৃত জ্বালা সৃষ্টি করছে, তারই ফল এই ৫২ ডিগ্রির ‘রিয়েল ফিল’।

–

–

–

–
–
–
