স্কুল পড়ুয়াদের ভারী ব্যাগের বোঝা কমাতে কেন্দ্রের ‘স্কুল ব্যাগ পলিসি ২০২০’ (School Bag Policy 2020) কার্যকর করার নির্দেশ দিল রাজ্য। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের নির্দেশিকার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন ইতিমধ্যেই জেলার শিক্ষা আধিকারিকদের কাছে বিস্তারিত গাইডলাইন পাঠিয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্কুল ব্যাগের ওজন কোনও ভাবেই পড়ুয়ার শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি হওয়া চলবে না। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ব্যাগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের ব্যাগের ওজন ১.৬ থেকে ২.২ কেজির মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে সর্বোচ্চ ৫ কেজি পর্যন্ত ব্যাগ বহনের সুপারিশ করা হয়েছে।
স্কুলগুলিকে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ব্যাগের নির্ধারিত ওজনের তালিকা টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলে ওজন মাপার যন্ত্র রাখার কথাও বলা হয়েছে, যাতে নিয়মিত ব্যাগের ওজন পরীক্ষা করা যায়। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং মানসম্মত মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে পড়ুয়াদের আলাদা করে জলের বোতল বা টিফিন বহন করতে না হয়। ক্লাস রুটিনও এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে প্রতিদিন কম বই আনতে হয়। প্রাথমিক স্তরে দিনে দু’টি বিষয়ের বেশি না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন: বিকাশের সওয়ালে স্বস্তিতে অদিতি-দেবরাজ! ১৯ জুন পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে না, মৌখিক নির্দেশ হাই কোর্টের

খাতার ক্ষেত্রেও একাধিক বদলের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে একটি মাত্র ক্লাসওয়ার্ক খাতা রাখার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে দুটি খাতা থাকলেও একসঙ্গে একটি খাতাই স্কুলে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মোটা খাতার বদলে পাতলা এক্সারসাইজ বুক ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। বাড়ির কাজ নিয়েও কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনও হোমওয়ার্ক নয়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সপ্তাহে সর্বাধিক দু’ঘণ্টা এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দিনে এক ঘণ্টার বেশি বাড়ির কাজ দেওয়া যাবে না। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে দিনে সর্বাধিক দু’ঘণ্টা হোমওয়ার্কের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ‘ব্যাগলেস ডে’ পালনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। খেলাধুলা, শিল্পচর্চা, কুইজ, কারিগরি শিক্ষা বা শিক্ষা সফরের মতো কার্যক্রমে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বছরে নির্দিষ্ট দিনে ব্যাগ ছাড়া স্কুলে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, জেলার সমস্ত স্কুলে দ্রুত এই নির্দেশিকা পৌঁছে দিয়ে কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

–

–

–

–
–
–
