চড়া রোদ, জ্বলন্ত রাস্তা সবকিছুকে উপেক্ষা করে কাঁধে ৯০ বছরের শাশুড়িকে নিয়ে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে চলেছেন বছর পঞ্চাশের সুখমনিয়া। লক্ষ্য মাসের বার্ধক্যভাতার ৫০০ টাকা। ছত্তিশগড়ের সুরগুজা (Surguja, Chhattisgarh) জেলার এই হৃদয়বিদারক ছবি আবারও সামনে এনে দিল দেশের মানুষের কঠিন বাস্তব।
কুনিয়া এলাকার জঙ্গলপাড়া (Junglepara in Kunia area) গ্রামের বাসিন্দা তিনি। গত চার মাস ধরে তাঁর শাশুড়ির পেনশন (Pension) বন্ধ ছিল। কারণ, ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি (KYC) হয়নি। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে বৃদ্ধাকে কাঁধে চাপিয়েই মেইনপাট শহরের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (Central Bank of India in Mainpat city) শাখায় পৌঁছন সুখমনিয়া। পুরো ঘটনাটি পথচলতি এক ব্যক্তি ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media)পোস্ট করেন।

সুখমনিয়ার দাবি, আগে ‘ব্যাঙ্ক মিত্র’-এর মাধ্যমে বাড়িতেই পেনশনের টাকা পৌঁছে যেত। কিন্তু কেওয়াইসি না থাকায় সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চার মাস ধরে এক টাকাও পাননি তাঁর শাশুড়ি। মেইনপাট জনপদ পঞ্চায়েতের সিইও খুশবু শাস্ত্রী (Khushboo Shastri) জানিয়েছেন, জানুয়ারি (January) মাসে শেষবার বাড়িতে পেনশন পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তারপর কেওয়াইসি সংক্রান্ত নথি সম্পূর্ণ না হওয়ায় পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ব্যাঙ্কে সমস্ত কাজ হয়ে যাওয়ার পর বকেয়া ২ হাজার টাকাও সঙ্গে সঙ্গে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামী মাস থেকে আবার বাড়িতেই পৌঁছে যাবে পেনশনের টাকা। তবে এই ঘটনার পর প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী টি এস সিং দেও (Former Deputy Chief Minister T.S. Singh Deo) কড়া ভাষায় বলেন, “ভোট চাইতে যদি নেতারা মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতে পারেন, তবে বৃদ্ধদের পেনশন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা উচিত।”

–

–

–

–
–
–
