প্রথমবার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে একাধিক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বিজেপির নতুন সরকার নিয়ে চলেছে। এবার নতুন করে ‘সৌজন্যে’র নজির থাকল বিধানসভা (West Bengal Assembly)। বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তো দেওয়াই হল না। এমনকি বিরোধী দলনেতা (LoP) ও বিরোধী দলের বিধায়ক দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও দেখা পেলেন না অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর (Speaker Rathindranath Basu)। প্রতিবাদে অধ্যক্ষের ঘরের বাইরে ধর্নায় বসলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay) ও কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
রাজ্যে মন্ত্রিসভা গঠনের ১৫ দিনের বেশি অতিক্রান্ত। শাসক-বিরোধী সব বিধায়কদের শপথগ্রহণও সম্পন্ন। অথচ বিরোধী দলনেতা হিসাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম দিয়ে যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে তাতে এখনও তিনি স্বীকৃতি দেননি। তার ফলে বিরোধী দলনেতা বিধানসভায় নিজের ঘরটুকু পাননি। এই সমস্যার সমাধানে বুধবার দুপুরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রার্থনা করলে সেখানে আরও এক নজিরবিহীন ঘটনা তৈরি হল। পাঁচ মিনিটের জন্য সাক্ষাতের সময় দেওয়াকেও প্রত্যাখ্যান করলেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ (Assembly Speaker)।

অধ্যক্ষের সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যানে বুধবার তাঁর ঘরের বাইরের অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেন দুই তৃণমূল বিধায়ক। গোটা ঘটনার বর্ণনা করে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আমাদের পরিষদীয় দলের দলনেতা। এবং সেই সুবাদে তিনি বিরোধী দলনেতা। সমস্ত চিঠিপত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও একটি জবাবি চিঠিতে বিরোধী দলনেতার পদকে স্বীকৃতি দেননি স্পিকার সাহেব। বিরোধী দলনেতাকে ঘর দেওয়া হয়নি। বিরোধীপক্ষকে ঘর দেওয়া হয়নি। পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকতে হচ্ছে বাইরে।

সেই প্রশ্ন নিয়ে অধ্যক্ষের সাক্ষাৎ চাইলে যে অসৌজন্যের নজির তিনি বুধবার রেখেছেন, তাতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুই বিরোধী বিধায়ক। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, উনি চাইলেন যা প্রথমে সেই চিঠি দিলাম। সেটা মান্যতা দিলেন না। এরপর আবারো চিঠি দিলাম। সেক্রেটারির আমাদের দেখালেন ২৫ তারিখে অধ্যক্ষ চিঠি দেখে জানিয়ে দেবেন। ২৫ তারিখ, ২৬ তারিখ পেরিয়ে গিয়েছে। অথচ এখনও আমরা কিছু জানতে পারছি না। তারপর পাঁচ মিনিট কথা বলতে চেয়েছিলাম। ছোট ছোট কথা। আমরা মিটিং করতে পারছি না, ঘর নেই বলে। বিধানসভায় দীর্ঘকাল আছি। অনেক স্পিকার (Assembly Speaker) ডেপুটি স্পিকারকে দেখলাম। দেখা করাটা একটা সৌজন্যের বিষয় ছিল। সেটুকু করলেন না?

আরও পড়ুন : অনুব্রত-কাজল-চন্দ্রনাথের নিরাপত্তায় কাটছাঁট রাজ্যের

ক্ষমতায় এসেই বিজেপির এই চরম অসৌজন্যের রাজনীতিতে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সৌজন্যের খাতিরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এসেছেন। অনুরোধ করতে, ঘরটা খুলে দিন। যে বিজেপি সৌজন্যের কথা বলছে এটাই তাদের সৌজন্যের প্রকৃত চেহারা। যেখানে ৩৬ বছর এই বিধানসভায় বিধায়ক হিসাবে থাকা সব থেকে বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আর প্রথমবারের বিধায়ক যিনি স্পিকার হয়েছেন। তিনি তাঁর সঙ্গে এক মিনিট কথা বলতে চাইছেন না?

–

–
–
–
