মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার জন্য চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন এক যুবক! নবান্ন থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। বুধবার রাতেই তৎপরতা দেখিয়ে বহরমপুর থানার পুলিশ আটক করেছে অভিযুক্ত যুবককে। ধৃতের নাম রাকিবুল শেখ, তিনি বহরমপুর থানার রাধারঘাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শিয়ালমারা এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।

পুলিশি হেফাজতে থাকা রাকিবুল অবশ্য গোটা ঘটনায় রীতিমতো হতবাক। তাঁর দাবি, গত দু’বছর ধরে অ্যাকাউন্টে এই অনুদানের টাকা আসছে। কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মেই এই সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি কোনওদিন কোনও ফর্ম পূরণ বা আবেদন করেননি। হঠাৎ অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। রাকিবুল আরও জানিয়েছেন, এই রহস্যের জট ছাড়াতে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তিনি নিজেই বহরমপুরের বিডিও অফিসে গিয়ে লিখিতভাবে সব জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ‘দেখছি’ বলে পরে আসতে বলা হয়। এমনকি ব্যাঙ্কেও ছোটোছুটি করেছিলেন তিনি। কিন্তু কে বা কারা, কোন চক্রের মাধ্যমে তাঁর নাম এই তালিকায় ঢুকিয়ে দিল, তা তিনি কিছুতেই বুঝতে পারছেন না।

অন্য দিকে, রাকিবুলের এই পরিণতির জন্য ব্যাঙ্ক এবং প্রশাসনিক গাফিলতিকেই সরাসরি দায়ী করছে তাঁর পরিবার। যুবকের দাদা হালিম শেখ জানিয়েছেন যে তাঁর ভাই সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাঁরা দরিদ্র মানুষ, লেখাপড়া জানেন না। একটা সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা পুরুষ না মহিলা, সেটা যাচাই করা ব্যাঙ্কের কর্মীদেরই কাজ ছিল বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে যে সরকারি টাকা ঢুকেছে, তার সবটাই তাঁরা ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত।

প্রশাসন সূত্রের খবর, সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কারা পাচ্ছেন, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে নবান্ন। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ-সহ অভিযোগ করেন যে, শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য বরাদ্দ এই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা অন্যায়ভাবে এক পুরুষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া বার্তার পরেই আর সময় নষ্ট করেনি জেলা পুলিশ। রাতেই শিয়ালমারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবুলকে আটক করা হয়। এই ঘটনার পিছনে শুধুই কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা করণিক ভুল রয়েছে, নাকি এর নেপথ্যে বড় কোনো দুর্নীতির চক্র সক্রিয়, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। প্রয়োজনে বিডিও দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন- বিএসএফ-এর হাতে আরও জমি হস্তান্তর রাজ্যের: জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

_

_

_
_
_
_
