রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয়ে গেল পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠনের (Cabinet Ministry expansion) কাজ। সোমবার সকাল ১১ টা নাগাদ লোকভবনে ৩৫ জন মন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাজ্যপাল আর এন রবি (RN Ravi), মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ছাড়াও ইতিমধ্যেই যেসব মন্ত্রীরা দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁরা সকলেই উপস্থিত ছিলেন। কারোর পরনে পাঞ্জাবি পায়জামা, কেউ আবার বাঙালিয়ানায় শান দিয়ে বেছে নেন ধুতি-পাঞ্জাবি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতিকেও দেখা যায় প্রথম সারিতে।

লোকভবনে বন্দেমাতরম ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।এদিন ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এছাড়াও তিনজন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও বাকি ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীও শপথ বাক্য পাঠ করেন।আজ দুপুরেই দফতর বন্টনের সম্ভাবনা রয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কারা কারা মন্ত্রী হলেন-

পূর্ণমন্ত্রী (ক্যাবিনেট মন্ত্রী) – ১৩ জন
১. দীপক বর্মন
২. তাপস রায়
৩. ড. শঙ্কর ঘোষ
৪. মনোজ কুমার ওঁরাও
৫. অর্জুন সিং
৬. গৌরীশঙ্কর ঘোষ
৭. স্বপন দাশগুপ্ত
৮. জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়
৯. কল্যাণ চক্রবর্তী
১০. অজয় পোদ্দার
১১. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়
১২. দুধকুমার মণ্ডল
১৩. অনুপ কুমার দাস

স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী – ৩ জন
১৪. ড. ইন্দ্রনীল খাঁ
১৫. মালতী রাভা রায়
১৬. রাজেশ মাহাতো

প্রতিমন্ত্রী – ১৯ জন
১৭. জুয়েল মুর্মু
১৮. হরেকৃষ্ণ বেরা
১৯. আনন্দময় বর্মন
২০. অশোক দিন্দা
২১. নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি
২২. বিশাল লামা
২৩. শান্তনু প্রামাণিক
২৪. মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র
২৫. উমেশ রায়
২৬. পূর্ণিমা চক্রবর্তী
২৭. কৌশিক চৌধুরী
২৮. ভাস্কর ভট্টাচার্য
২৯. দিবাকর ঘরামি
৩০. অমিয় কিস্কু
৩১. কলিতা মাজি
৩২. গার্গী দাস ঘোষ
৩৩. বিরাজ বিশ্বাস
৩৪. দীপঙ্কর জানা
৩৫. সুমনা সরকার

বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহল বলছে, যেভাবে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা হয়েছে তাতে এই মন্ত্রিসভার মাধ্যমে আঞ্চলিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষার স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে নবনির্বাচিত সরকার।উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, সীমান্তবর্তী জেলা থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা— প্রায় সব অঞ্চল থেকেই প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে পদ্মদল। পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, প্রাক্তন সাংসদ এবং দীর্ঘদিনের সংগঠক— বিভিন্ন পটভূমির নেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। আবার স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, আদিবাসী উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ক্ষেত্রগুলির কথা মাথায় রাখা হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভার তালিকায় একাধিক মহিলা মুখের অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একই সঙ্গে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, রাজবংশী, গোর্খা এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের একাধিক বিধায়কের মন্ত্রীত্ব পাওয়া বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর দফতর বণ্টনের দিকে। স্বরাষ্ট্র ও অর্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাছেই রাখবেন বলে জোর জল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সেচ, শিল্প, কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর কার হাতে যায়, তা নিয়েও কৌতূহল তুঙ্গে।বিজেপির দাবি, এই মন্ত্রিসভা ‘নতুন বাংলার উন্নয়নের রূপরেখা’ বাস্তবায়নের জন্য গঠিত হয়েছে। বিরোধীদের মতে, এত বড় মন্ত্রিসভা গঠনের পর এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা প্রমাণ করা। এই চ্যালেঞ্জ কতটা সামলাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এখন সেটাই দেখার।

–
